মেঘনা ও গোমতী সেতু দিয়ে যান চলাচল ৯৬ ঘণ্টা বন্ধ

মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু দিয়ে যান চলাচল আজ শুক্রবার ভোর ছয়টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত ৯৬ ঘণ্টা একটানা বন্ধ থাকবে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ সময়ে এই রুটে চলাচলকারী সকল যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ করেছে। তবে বিকল্প সড়কের অবস্থা নাজুক হওয়ার কারণে অসহনীয় যানজট সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেতু দুটির প্রথম পর্বের স্থায়ী মেরামতকালে (৯৬ ঘণ্টা) চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-ঢাকা যাতায়াতের বিকল্প সড়ক হিসাবে চট্টগ্রাম-কুমিল্ল¬া-ময়নামতি-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সরাইল বিশ্বরোডের মোড়-আশুগঞ্জ-ভৈরব-তারাবো মোড় (রূপগঞ্জ)-কাঁচপুর ব্রিজ-যাত্রাবাড়ী-ঢাকা সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইভাবে মন্ত্রণালয় ঢাকা-কুমিল্ল¬া-চট্টগ্রাম যাতায়াতের জন্য ঢাকা-যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর ব্রিজ-তারাবো মোড় (রূপগঞ্জ)-নরসিংদী-ভৈরব-আশুগঞ্জ-সরাইল বিশ্বরোডের মোড়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ময়নামতি-কুমিল্ল¬া-চট্টগ্রাম সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। বিকল্প সড়কের হাল কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, বিকল্প সড়কের নাজুক অবস্থা। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় যে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের কথা বলছে, সেটির একটি বড় অংশ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিকল্প হিসাবে নরসিংদী, ভৈরব ও আশুগঞ্জ হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ময়নামতি সড়ক ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। এই সড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ময়নামতি পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশই ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪২ কিলোমিটারের অবস্থা খুবই করুণ। এই অংশের প্রায় ১৬টি ব্রিজ কালভার্টের অবস্থা জরাজীর্ণ। বিভিন্ন জায়গায় বিটুমিন উঠে গেছে। কোথাও কোথাও ইট-পাথর উঠে গিয়ে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। গোটা সড়ক খানা-খন্দকে ভরা। সব মিলিয়ে এই সড়ক ভারী যানবাহন চলাচলের জন্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ; অথচ সড়ক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু বন্ধ থাকায় আগামী চারদিন বিকল্প এই সড়ক দিয়ে দিনে প্রায় ২৫ হাজার ভারী যানবাহনসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করবে। এছাড়া এই সড়কে কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে এবং সড়কের মেরামতের কাজও চলছে। ফলে বড় ধরনের যানজটের আশংকা রয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রীর বিকল্প সড়ক পরিদর্শন সরেজমিনে বিকল্প সড়কটির অবস্থা দেখার জন্য গত বুধবার যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়েছিলেন। সড়কের অবস্থা দেখে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, সড়কটি সম্পর্কে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে। যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে সে অনুযায়ী কাজ হয়নি বলেও মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। এ সড়কের সংস্কার কাজ নির্দেশমতো না হওয়ায় এবং মন্ত্রণালয়ের সভায় সঠিক তথ্য প্রদান না করায় মন্ত্রী তাত্ক্ষণিকভাবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম, কুমিল্লা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রুহুল আমিন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া অন্যান্য জোন থেকে সরঞ্জাম এনে অবিলম্বে এ সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জন্য মন্ত্রী প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনার পর জরুরি ভিত্তিতে সড়কটির কিছু মেরামত কাজে হাত দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বিকল্প সড়কের যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ার কথা থাকায় সিএনজি, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দাউদকান্দিতে ফেরি নেই আমাদের দাউদকান্দি সংববাদদাতা জানিয়েছেন, মেঘনা-গোমতী ও মেঘনা সেতু দুটি বন্ধ থাকা অবস্থায় দাউদকান্দি থেকে যানবাহন পারাপার দূরের কথা যাত্রী পারাপারেরও কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকেরা জানায়, নিজস্ব উদ্যোগে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে যাত্রীদেরকে দাউদকান্দি ঘাট থেকে বাউশিয়া ঘাটে পৌঁছতে হবে। এদিকে দাউদকান্দি বা বাউশিয়া ঘাটে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভিড়াবার কোন ঘাট তৈরি করা হয়নি। সেতু দুটি বন্ধ থাকায় এবং বিকল্প হিসাবে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ঢাকার নিকটবর্তী ৮টি রুটের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দাউদকান্দি-ঢাকা, হোমনা-ঢাকা, কচুয়া-ঢাকা, মুরাদনগর-ঢাকা, মতলব-ঢাকার মতো রুট। ফেরি পারাপার ব্যবস্থা না রাখায় প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে। ঢাকা-হোমনা রুটের মালিক সমিতির নেতা মাহবুব সিকদার বলেন, শুধু ঢাকা-হোমনা রুটের সুপার ও লোকাল সার্ভিস দিয়ে প্রতিদিন ৩/৪ হাজার যাত্রী চলাচল করে। যদি বিকল্প হিসাবে ফেরি দিয়ে গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা করা হত তাহলে অর্ধেক যাত্রী সেই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেত। এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জোনের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, মেরামতের সময় সেতু দিয়ে লোকজনও চলাচল করতে দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, মেঘনা-গোমতী নদীতে চর পড়ায় এখানে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলেও মেঘনা নদীতে ফেরির ব্যবস্থা করা যেত। ঢাকার নিকটবর্তী ৮টি রুটের যাত্রীরা কেউ যদি ঢাকা যেতে চায় তাহলে দাউদকান্দি থেকে মেঘনা-গোমতী নদী ট্রলার দিয়ে পার হয়ে, গাড়িতে করে মেঘনা পাড়ে গিয়ে সেখান থেকে আবার ট্রলারযোগে মেঘনা নদী পার হয়ে মেঘনা ঘাট থেকে বাসে ঢাকায় চলাচল করতে পারবে। ট্রেনে টিকেট নেই দুই সেতু মেরামতের জন্যে বন্ধ থাকার কারণে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ দেশের পূর্বাঞ্চলে যাওয়ার জন্যে ট্রেনের উপর প্রবল চাপ পড়েছে। রেলসূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর দিকে যাতায়াতকারী সব ইন্টারসিটি ট্রেনের টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। তারপরও টিকেট কাউন্টারে ভিড় বাড়ছে। উল্লেখ্য, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় তরফে রেলকে ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।