ফরিদপুর মেডিক্যালের হূদরোগ বিভাগের প্রধানের ঢাকায় মৃত্যু

ঢাকায় অস্ত্রোপচার করাতে এসে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের হূদরোগ বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম মাজহারুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান। মাজহারুলের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, ‘অপচিকিত্সা’য় তার মৃত্যু হয়েছে। ডা. মাজহারুলের পারিবারিক সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অর্শ (পাইলস) রোগে ভুগছিলেন। অস্ত্রোপচার করানোর জন্য গত ২৩ ডিসেম্বর তিনি রাজধানীর পান্থপথের গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরের দিন তার অর্শের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পরপরই তিনি হূদরোগে আক্রান্ত হন। অবস্থা খারাপ হওয়ায় রাতে অক্সিজেন দেয়া অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ল্যাব এইডের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বুধবার রাতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি লাইফ সাপোর্টেই ছিলেন। জানা গেছে, গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে চিকিত্সক এস কে আবু জাফর ও মাহবুবুল হাসান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের পরপরই মাজহারুল হূদরোগে আক্রান্ত হন। তার ছোট ভাই জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি’র কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একই অপারেশন থিয়েটারে আরো একজন রোগীর অপারেশনের কাজ চালাচ্ছিলেন ঐ চিকিত্সকরা। মাজহারুল ইসলামকে এনেসথেসিয়া করার পর ডা. এস কে আবু জাফর অপর রোগীর দিকে মনযোগ দেন। এসময় ডা. মাজহারুল হূদরোগে আক্রান্ত হলেও অপারেশন থিয়েটারে অভিজ্ঞ নার্স না থাকার ফলে বিষয়টি কেউ খেয়াল করেননি। অপারেশনের দেড় ঘন্টা পর চিকিত্সকরা জানান তিনি সুস্থ আছেন। কিন্তু পরে জ্ঞান না ফেরায় তারা চিন্তায় পড়ে যান। ডা. মাজহারুলের ভগ্নিপতি ল্যাব এইডের ডা. মোহাম্মদ ফারুক ছুটে যান ঐ হাসপাতালে। অক্সিজেন দেয়া অবস্থায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ল্যাব এইডের আইসিইউতে স্থানান্তর করে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। জানা গেছে, ডা. মাজহারুল ইসলামের বাবা এস এম শওকত আলী, স্ত্রী শামীমা সুলতানা ছবি, ছোট বোন শামীমা সুলতানা লিনা, ভগ্নিপতি মোহাম্মদ ফারুক প্রত্যেকেই চিকিত্সক। তারা সবাই অভিযোগ করেছেন, গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে অতিরিক্ত অ্যানেসথেসিয়া দেয়ার কারণেই মাজহারের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর। এ ব্যাপারে গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মাজহারুল ইসলাম খুবই ভালো এবং জনপ্রিয় চিকিত্সক ছিলেন। তিনি আমাদের হাসপাতালেরও হূদরোগ বিভাগের পরামর্শক ছিলেন। আমরা তাকে স্পাইনাল অ্যানেসথেসিয়া (শরীরের নিচের অংশের অবশ) করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাজহারুল নিজেই বলেছিলেন, কেবল নিচের অংশ অজ্ঞান করে জামা-কাপড় খুললে আমার খারাপ লাগবে। কাজেই পুরোপুরি অজ্ঞান করেন। তার অনুরোধেই পুরোপুরি অজ্ঞান করা হয়। আধা ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করা হয়। বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে পোস্ট অপারেটিভে নেয়া হয়। এ সময় তিনি নার্সদের কথায় সাড়া দিচ্ছিলেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই তার রক্তচাপ (ব্লাড প্রেশার) দ্রুত নামতে থাকে। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে হাসপাতালের সব চিকিত্সক এসে অক্সিজেন, ইনজেকশন দেয়াসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেন। দ্রুত আবার সব স্বাভাবিক হয়। ৬টার দিকে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার তার ব্লাড প্রেসার কমে যায়। খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে আসেন। তারাই তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’ কোনো ধরনের অপচিকিত্সা কিংবা অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। ডা. মাজহারুল ইসলামের বাড়ি ময়মনসিংহে। তার তিন ছেলে-মেয়ে। বড় ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। পরিবার, স্বজন সবার কাছেই তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ এবং ভালো চিকিত্সক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।