আমি সুব্রত বাইনের সহযোগী বলছি, ১০ লাখ টাকা চাই...
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২০
‘আমি সুব্রত বাইনের সহযোগী বলছি। সুব্রত কে ? আরে, সুব্রতকে চেনেন না ? শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের কথা বলছি।
কী চান?
‘হ্যাঁ, এবার আসল কথায় এসেছেন। ১০ লাখ টাকা চাই। কারণ আমাদের দলের কয়েকজন সদস্য ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় গ্রেফতার হয়েছে। তাদের ছাড়াবার জন্য টাকার দরকার।’ ভাই, ব্যবসা ভাল যাচ্ছে না। এত টাকা তো দিতে পারবো না। ঠিক আছে। টাকাটা না দিলে নিজের জীবনটাই হারাবেন। ভেবে দেখার জন্য কয়েক ঘন্টা সময় দিলাম। আপনার আশপাশেই আমাদের লোক অবস্থান করছে।’ কথাগুলো মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজ মাসুমের। গত বছরের শুরুতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে সুত্রাপুর থেকে গ্রেফতার করে।
মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি রোধ ,অনুসন্ধান ও গ্রেফতারের দায়িত্ব দেয়া হয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে। ডিবি পুলিশ ভুক্তভোগীদের গোপনে ডিবির সঙ্গে যোগাযোগেরও অনুরোধ জানায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি নিয়ে মহানগর গোয়েন্দা দফতরে গত বছর দুই শতাধিক অভিযোগ পড়ে। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। এরমধ্যে কয়েকটি ঘটনা ছিল নেহায়েত হুমকি। আর কিছু ছিল সত্যিকারের চাঁদাবাজদের। এ ধরনের ৫০ জন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়। আর চাঁদাবাজদের ব্যবহূত ১৮৫টি মোবাইল ফোন শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ স্থায়ীভাবে এসব মোবাইল সিম বাতিল করার জন্য বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরদের অনুরোধ জানায়। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ১৮৫টি মোবাইল সিম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।
ডিসি মিডিয়া বলেন, সন্ত্রাসীদের ১৮৫টি সিম স্থায়ীভাবে তালা লাগানোর ( বন্ধ করা) ফলে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি নিয়ে অভিযোগ অনেকটা কমেছে। আরো কিছু মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে সেগুলোও বন্ধ করে দেয়ার জন্য মোবাইল ফোন অপারেটদের অনুরোধ জানানো হবে।
চাঁদাবাজ অভিযানকারী টিমের পুলিশ কর্মকর্তা ডিবি এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান বলেন, মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি বা হুমকির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। দেখা গেছে, ১০ ঘটনার মধ্যে চারটি চাঁদা সংক্রান্ত। অন্যগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রসঙ্গ। কখনও দেখা গেছে তালাকপ্রাপ্ত স্বামীকে ফাঁসাতে গিয়ে কোন ব্যবসায়ীকে হুমকি ও চাঁদা দাবি করা হয়েছে যাতে ঐ ব্যবসায়ী তালাকপ্রাপ্ত স্বামীকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। মিরপুরের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু মোবাইল ফোনেই নয় ঐ ব্যবসায়ীকে চিরকুট ও কাফনের কাপড়ও চিঠির মধ্যে করে পাঠানো হয়েছিল। আর এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক লেখালেখিও হয়েছিল। গ্রেফতার হওয়ার পর বের হয় প্রকৃত ঘটনা কী ছিল।
প্রকৃত চাঁদাবাজদের সম্পর্কে তিনি বলেন, কারাগারে আটক ও বিদেশে পালিয়ে থাকা বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগীরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে আসছিল। এটা বেশি ছিল রাজধানীর মিরপুর ও পুরনো ঢাকায়। মিরপুরে গার্মেন্টস মালিক ও নির্মাণাধীন ব্যবসায়িরাই ছিল এদের টার্গেট। চাঁদা না দিলে গার্মেন্টস ও নির্মাণাধীন বাড়ির নিরাপত্তা কর্মীদের তারা পায়ে গুলি করতো।
এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়। দেখা গেছে গ্রুপটি বেশ কয়েকটি মোবাইল নম্বর থেকে ব্যবসায়ী ও নির্মাণাধীন বাড়ির মালিকদের হুমকি দিত।। গ্রেফতার হওয়া সন্ত্রাসীদের দেয়া তথ্যমতে মোবাইল ফোন নম্বরগুলো চিহ্নিত করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসি (দক্ষিণ) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, চাঁদাবাজির ঘটনায় দেখা গেছে কারাগারে আটক বেশ কয়েকজন নিয়মিত মোবাইল ফোনে কথা বলে। আর সবগুলোই ছিল চাঁদা সংক্রান্ত। তারা ফোনে তাদের সহযোগীদের নির্দেশনা প্রদান করতো। এসব ফোনের সূত্র ধরেই তিনি পুরনো ঢাকা থেকে মাসুদসহ বেশ কয়েকজন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেন। এছাড়াও পুরনো ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত শহীদের কয়েকজন সহযোগীকে (ডাকাত শহীদ বেশ কয়েক মাস আগে র্যাবের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়)। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের ১৮৫টি মোবাইল সিম বন্ধ করে দেয়ার ফলে চাঁদাবাজির অভিযোগ এখন তেমন একটা শোনা যায় না।