জিয়াউদ্দিনের কাছে ব্যাখ্যা
চেয়েছে ট্রাইব্যুনাল
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২২
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সাবেক প্রধান বিচারপতি নিজামুল হকের সঙ্গে কথিত স্কাইপে কথোপকথনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্য বেলজিয়াম প্রবাসী আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিনের বিরুদ্ধে এই রুল জারি করেন। ট্রাইব্যুনালের আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ড. জিয়াউদ্দিনকে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, সম্প্রতি স্কাইপে আইনজীবী ড. জিয়াউদ্দিনের যে কথোপকথন প্রকাশ হয়েছে তার সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা দরকার। যদি তা সত্যি হয়ে থাকে তবে তা অবৈধ। যেহেতু তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ নন, তাই আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি কথা বলতে পারেন না। কোন ক্ষমতাবলে বিচারিক বিষয়ে মত দিয়েছেন সে বিষয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। ট্রাইব্যুনালের আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আহমেদ জিয়াউদ্দিনকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। ট্রাইব্যুনাল এ আদেশের কপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলেছেন। মন্ত্রণালয় ৭ জানুয়ারির মধ্যে তা বেলজিয়ামের দূতাবাসে পাঠাবে। ব্যাখ্যা নিয়ে তাকে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ব্রাসেলসে বাংলাদেশ দূতাবাসে হাজির হতে বলা হয়েছে। জিয়াউদ্দিনের সেই বক্তব্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ১৪ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করতে বলা হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে আদেশের পরবর্তী দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে স্কাইপে কথিত কথোপকথনের বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন বিচারপতি নিজামুল হক। এই কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরুর আবেদন করেন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতে ইসলামের চার নেতা।