আদিবাসী মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের
আট বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৪০
সাহায্য নির্ভর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জে আদিবাসী শিশু শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের ৮টি বিদ্যালয় আবারও চলতি মাসেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতি বছরে প্রায় ২ শতাধিক আদিবাসী শিশু শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন তাড়াশ ও রায়গঞ্জের বোয়ালপুকুর, খোদবাড়ী, মানিকচাপর, ধলজান ও দেওঘরে ৫ বছরের শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পূর্বে মাতৃভাষার মাধ্যমে বাংলা শেখার জন্য ৫টি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মাতৃভাষার মাধ্যমে বাংলা শিখিয়ে আদিবাসী শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির উপযুক্ত করে গড়ে তুলতেন। এখানে শিক্ষকরা সাদরি ভাষায় ২ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীকে ১ বছর যাবত্ মাতৃভাষার পাশাপাশি বাংলা শেখাতেন। প্রতিবছর দুই পর্বে বিভক্ত ৮টি বিদ্যালয়ে প্রায় ২ শতাধিক আদিবাসী ছেলে-মেয়ে তাদের মাতৃভাষা সাদরিতে শিক্ষা লাভের সুযোগ লাভ করে।
মূলত আদিবাসী শিশু উড়াও, শিং, কর্মকার তাদের মাতৃভাষা সাদরি জানার কারণে বাংলা কম জানায় স্কুলে ভর্তি ও শিক্ষার ভয়-ভ্রীতি কাজ করত। এ কারণে আদিবাসী অধ্যুষিত তাড়াশ ও রায়গঞ্জে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ৩ বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। এতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশ্রয় সাদরি ভাষার কারিকুলাম মোতাবেক বিদ্যালয়গুলোতে বই ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান করত; কিন্তু এনজিও সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলো প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর বন্ধ হয়ে যায়। তিনি স্থানীয় উড়াও ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮টি স্কুল চালু রাখেন। যা ৩১ ডিসেম্বর বন্ধ হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে সৈয়দ শাকিল মোবাইল ফোনে এ প্রতিনিধিকে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠিত আশা ফাউন্ডেশনের পক্ষে আর স্কুলগুলো চালু রাখা সম্ভব নয়। এর ফলে ২ শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী ও ৮ জন শিক্ষক দুই চোখে অন্ধকার দেখছেন। এ প্রসঙ্গে উড়াও ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক জগেন্দ্রনাথ টপ্প্য বলেন, আমরা বিনীত ভাবে জার্মান প্রবাসী সৈয়দ শাকিলকে বিদ্যালয়গুলো চালু রাখতে বিনীত ভাবে অনুরোধ করেছি। তিনি যদি চালু না রাখেন তাহলে শিশুরা মাতৃভাষা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।