সুন্দরবনে ১৬ বছরে ৪১ বাঘ হত্যা, হাড়-চামড়া পাচার

কৌশলে বাঘ হত্যা করে এর হাড়, চামড়া ও দাঁত পাচার করছে সংঘবদ্ধ চক্র। খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে সুন্দরবন ও আশেপাশের এলাকায় ৫২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি বাঘকে পিটিয়ে ও ১৭টি বাঘকে চোরা শিকারীরা কৌশলে হত্যা করেছে। বাকি ১১টি বাঘের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, গত বছরের ৬ নভেম্বর মংলার ঢাংমারিতে একটি বাঘ হত্যা করা হয়। এরপর বাঘের চারটি বড় দাঁত (ক্যানাইন) চার লাখ টাকায় বিক্রির চেষ্টা করে পাচারকারীরা। এ অবস্থায় র্যাব ৩টি দাঁতসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। গত ১৫ ডিসেম্বর পশ্চিম সুন্দরবনের জয়খালিতে উদ্ধার হওয়া মৃত বাঘটির মাথা ও চার পা আগেই কেটে নেয়া হয়। সূত্র অনুযায়ী, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে পাচারের সময় ৪টি বাঘের মাথা, ৩টি চামড়া ও ৩২ কেজি হাড় উদ্ধার হয়। ২০০৯ সালের ২৬ আগস্ট খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা থেকে র্যাব বাঘের চামড়াসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া গত ৯ ও ৩১ ডিসেম্বর মংলার ঢাংমারী থেকে বাঘের তিনটি দাঁতসহ দু’জন গ্রেপ্তার হয়েছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার বিভাগীয় কর্মকর্তা আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজ জানান, কিছুদিন আগেও ধারণা করা হতো বাঘ হত্যা বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা। কিন্তু দাকোপের ঢাংমারীতে বাঘটিকে হত্যার পর তার দাঁত নিয়ে যাওয়া ও পশ্চিম সুন্দরবনের জয়খালীতে বাঘের মাথা ও পা কেটে নিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর বাঘের দাঁতসহ দু’জনকে গ্রেপ্তারের পর পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, চীন, মািয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে বাঘের চামড়া, হাড় ও দাঁতের চাহিদা রয়েছে। একইসাথে পাচারকারীরা হরিণ, গুইসাপ, তক্ষক ও কুমিরের চামড়া, হাড় ও দাঁত পাচার করছে। জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় স্ট্রেনদেনিং রিজিওনাল কো-অপারেশন প্রকল্প এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকোটুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পাচার রোধে ২০০১ সাল থেকে এ অঞ্চলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত দু’বছরে এই বিভাগ ১১৪৫টি কচ্ছপ, ১১টি হনুমান, ৩টি মেছোবাঘ, ৪টি অজগর সাপ, ১টি গন্ধ গকুল ও বাঘের দাঁত উদ্ধার করেছে। দাকোপ-কয়রা সিএমসি’র সভাপতি এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, মাছ ধরার পারমিট নিয়ে এই বোটগুলো বনের ভিতরে প্রবেশ করে। যথাযথ তল্লাশির না হওয়ার সুযোগে এই বোটগুলোতে করেই বন্যপ্রাণী পাচার হয়ে থাকে। এছাড়া রামপাল-মংলা নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিকল্প পথ হিসেবে সিমেন্ট, ক্লিংকার ও সারবাহী কার্গোগুলো এখন সুন্দরবনের নন্দবালা-চাঁদপাই-দুধমুখি-বগি-বরিশাল রুট ব্যবহার করছে। অনেক কার্গো বন্যপ্রাণী চোরাচালানের ক্ষেত্রে ব্যবহূত হচ্ছে বলে বন সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।