প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, নিহত ৫ শ্রমিকের দাফন সম্পন্ন
চাটমোহরে কান্নার রোল
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২৭
চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাটে ভলগেট তলিয়ে যাবার ঘটনায় নিহত ৫ জন শ্রমিকের লাশ পাবনার চাটমোহর উপজেলার বরদানগর ও লাঙ্গলমোড়া গ্রামে এবং তাড়াশ উপজেলার রাণীগ্রামে দাফন করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারি থামেনি। গতকাল নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিহত হেলাল সরদার, বিদ্যুত্ ও সজিবের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ বিদ্যুতের অসুস্থ পিতা মফিজ প্রাং। তার বোন হাফিজা মাতম করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন। হেলাল সরদারের নববধূ তাকিয়ে আছেন আগুন্তকদের প্রতি। শোক ও কান্না চলছে সজিবের পরিবারে। গ্রামবাসী জানালেন নিহতরা সকলেই হতদরিদ্র ও ভূমিহীন। এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিবারের খোঁজ কেউ নয়নি। জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা আসেননি নিহতদের বাড়িতে। কোন সহায়তা পায়নি তারা। গত মঙ্গলবার ভোরে মাটি বোঝাই একটি ভলগেট শরীয়তপুরের কোদালপুর থেকে ৪৪ জন শ্রমিকসহ নারায়নগঞ্জে যাচ্ছিল। সকাল ৬টার দিকে ভলগেটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাঁদপুর হরিণা ফেরিঘাটের পল্টুনের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই ভলগেটটি মেঘনা নদীতে তলিয়ে যায়। এতে ৭ জন শ্রমিক নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ শ্রমিকদের বাড়ি পাবনার চাটমোহর ও পার্শ্ববর্তী তাড়াশ উপজেলায়। এরমধ্যে ৫ জন শ্রমিকের লাশ পাওয়া যায়। এরা হলেন, চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের বরদানগর গ্রামের লরিম সরদারের ছেলে হেলাল সরদার (২০), মফিজ প্রাং’র ছেলে মোস্তফা ওরফে বিদ্যুত্ (১৭), লাঙ্গলমোড়া গ্রামের আশরাফ ফকিরের ছেলে সজিব (১৭) ও তাড়াশ উপজেলার রাণীগ্রামের আঃ মজিদ (৪৫) এবং লুত্ফর (২০)। স্থানীয় সংসদ সদস্য জানান, আমি ঢাকায় রয়েছি। এলাকায় ফিরেই নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানে ব্যবস্থা করা হবে। চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, আমি তো বিষয়টি জানতাম না। আপনার মাধ্যমেই জানলাম।