আবার সেই বালোতেল্লি!
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩২
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে একবার গোল করার পর টি-শার্ট উঁচু করে একটা লেখা দেখিয়েছিলেন—হোয়াই অলওয়েজ মি?
তাকে নিয়ে সবসময় কেন বিতর্ক হয়, এ প্রশ্ন মারিও বালোতেল্লির মনেও আছে! কিন্তু সমস্যা হল, বিতর্কটা তিনিই তৈরি করেন। এবারে আরেক বিতর্ক সৃষ্টির জন্য খ্যাত মানুষ, বালোতেল্লির কোচ রবার্তো মানচিনির সঙ্গে রীতিমতো হাতাহাতির কাণ্ড ঘটালেন। না, বালোতেল্লি কোচের গায়ে হাত তোলেননি। মাঠে দফায় দফায় নির্দেশ অমান্য করায় কোচ মানচিনি তাকে কলার ধরে টেনে বের করে দিয়েছেন মাঠের বাইরে। আর সেইসব ছবি প্রকাশ পেয়ে গেছে ইংল্যান্ডের সংবাদ মাধ্যমে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বালোতেল্লি ক্লাবের যাজকের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু যাজক তার ম্যানসিটি ক্যারিয়ার বাঁচাতে পারবেন কি না; তা নিয়ে সন্দেহ আছে। সেই ইতালি থেকে বালোতেল্লির শুরু বিতর্কের সঙ্গে বসবাস।
অসাধারণ প্রতিভাধর এই ফরোয়ার্ড মাঠের বাইরে, মাঠে সবসময়ই গণ্ডগোল করতে ওস্তাদ। এ জীবনে বহুবার এসব ঝামেলা করে নিষেধাজ্ঞা, গ্রেপ্তার, শাস্তি পেয়েছেন। তারপরও তিনি বালোতেল্লিই আছেন। আবার রবার্তো মানচিনিও ক্ষ্যাপাটে কোচ। তার সঙ্গেও কারো বনিবনা হয় না সহজে। কার্লোস তেভেজের সঙ্গেও মাঠে গণ্ডগোল করার রেকর্ড আছে। অবশ্য এর আগে মানচিনি বহুবার স্বদেশী বালোতেল্লিকে ক্ষমা করেছেন; বারবার বলেছেন, ওর এতো নেতিবাচক কাণ্ডের পরও প্রতিভার জন্য তাকে দলে রাখবেন।
পরশু ম্যানসিটির অনুশীলনে সেই প্রতিভাকে আর সহ্য করতে পারলেন না মানচিনি। ঘটনার শুরু অনুশীলনে বালোতেল্লি একটি ‘লেট ট্যাকল’ করায়। রাফ এই ট্যাকলে সতীর্থ আহত হতে পারতেন। এই ঘটনার পর মানচিনি স্বাভাবিকভাবেই মাঠ ছাড়তে নির্দেশ দেন বালোতেল্লিকে। কিন্তু বালোতেল্লি মাঠ না ছেড়ে উল্টো কোচের কাছে তেড়ে গিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন। এরপরই কোচ তাকে কলার ধরে টেনে বের করে আনেন মাঠের বাইরে। দু’জন ততোক্ষণে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে গেছে। সহকারী কোচরা হস্তক্ষেপ করে দু’জনকে টেনে দু’পাশে সরিয়ে নেন। পরপরই নিজের গাড়িতে করে মাঠ ছেড়ে চলে যান বালোতেল্লি।
এখন দেখার বিষয়, এটাই বালোতেল্লির ম্যানসিটি ছেড়ে শেষ যাওয়া কি না!
কেলেঙ্কারির
খতিয়ান
গাড়ি দুর্ঘটনা: আগস্ট, ২০১০
ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই নিজের ওডি-আরএইট গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটালেন। সমস্যা এখানে নয়। পুলিশ এসে আবিষ্কার করল, গাড়িতে নগদ ৫ হাজার পাউন্ড নিয়ে ঘুরছিলেন তিনি। এতো টাকা নিয়ে ঘুরছেন কেন? জবাবে বালোতেল্লি বললেন, ‘কারণ, আমি ধনী মানুষ।’
উইলশিয়ার কাণ্ড: ডিসেম্বর, ২০১০
বেফাঁস কথা বলার ধারাবাহিকতায় বলে বসলেন, ফিফা ইয়ং প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার-জয়ী জ্যাক উইলশিয়ারের নাম কখনো তিনি শোনেননি; মানে উইলশিয়ার মনে রাখার মতো কেউ নন। কোচ মানচিনি পরিষ্কার বললেন, এ ধরনের অসৌজন্যমূলক কথা বলা বন্ধ করতে হবে।
ডার্ট-ছোঁড়া: মার্চ, ২০১১
ম্যানসিটির এক তরুণ খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে সূঁচালো ডার্ট ছুঁড়ে মারলেন। ভাগ্য ভালো যে, ডার্ট কারো গায়ে লাগেনি। সে যাত্রা সতর্ক করে ছেড়ে দেয়া হল।
ব্যাকহিল কেলেঙ্কারি: জুলাই, ২০১১
প্রাকমৌসুম ম্যাচে এলএ গ্যালাক্সির বিপক্ষে ফাঁকা পোস্টের সামনে বল পেলেন। এরপর করলেন ভূতুড়ে এক কাণ্ড। এক পায়ের ওপর ঘুরে পেছন ফিরে ব্যাকহিল করে বল জালে পাঠাতে চাইলেন! কেন এই অদ্ভূত চেষ্টা তা কে জানে! তবে গোল না হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে মাঠ থেকে তুলে নিলেন কোচ।
আগুন, আগুন: অক্টোবর, ২০১১
বাসার বাথরুমে আগুন লেগে যাওয়ায় ইমার্জেন্সিতে ফোন করলেন বালোতেল্লির বাসার লোকজন। পরে দেখা গেল আগুন নয়, বাসায় আতশবাজি রেখেছিলেন বালোতেল্লি। আবার খবরে এলেন। পরদিন ম্যানসিটির হয়ে গোল করার পর টি-শার্ট খুললেন। ভেতরের টি শার্টে লেখা—হোয়াই অলওয়েজ মি?
কার্ফু-ভঙ্গ: ডিসেম্বর, ২০১১
চেলসির বিপক্ষে ম্যাচের আগে ক্লাবের ঘোষিত ৪৮ ঘন্টার কার্ফু ভেঙে এক হোটেলে চলে গেলেন তারকারি চাখতে।
রিচার্ড বিতর্ক: ডিসেম্বর, ২০১১
কার্ফু ভঙের কয়েকদিন পরই অনুশীলনে সতীর্থ মিকাহ রিচার্ডসের সঙ্গে হাতহাতির ছবি ছাপা হল পত্র-পত্রিকায়।
পার্কার-বিবাদ: জানুয়ারি, ২০১২
টটেনহামের স্কট পার্কারের সঙ্গে মাঠে মারাত্মক সংঘর্ষ ঘটানোর পর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেলেন।
ইন্টারের সংবাদ সম্মেলন: মার্চ, ২০১২
সবাইকে চমকে দিয়ে ইন্টার মিলানের নতুন কোচ আন্দ্রেয়া স্ত্রামাচ্চিওনির প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ঢুকে পড়লেন। সেখানে গিয়ে নিজেকে সারপ্রাইজ বলে হাত মেলালেন নতুন কোচের সঙ্গে।
তাকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ‘ব্যাড বয়’ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া মারিও বালোতেল্লি প্র্যাকটিসে কোচ রবার্তো মানচিনির সাথে হাতাহাতির ঘটনায় জড়িয়ে গড়লেন নতুন বিতর্ক
- ওয়েবসাইট