কলারোয়ায় পাখি শিকারীদের ঠেকানোর কেউ নেই
কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩১
ঘন কুয়াশার মধ্যে কলারোয়ায় চোরা পাখি শিকারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাওড়- বাঁওড়, নদ-নদীর তীর ও চিংড়ি ঘেরে এরা এয়ারগান বা পাখি মারার ফাঁদ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। প্রতিদিন কয়েকশ’ পাখি নিধন হচ্ছে এদের হাতে। হাট-বাজারেও এসব পাখি বিক্রি হচ্ছে দেদার।
উন্মুক্ত জলাশয় ও নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, চোরা শিকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পাখি নিধনের হারও বেড়েছে। এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকারের পাশাপাশি জাঁতিকল, বিষটোপ, ঘুমের ওষুধ, ফাঁস জালসহ নানা পন্থায় এসব পাখি শিকার করা হয়। স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে এসব পাখির চাহিদা যথেষ্ট। চাহিদার কারণে এগুলো ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গ্রামবাসীরা জানান, সাদা ধড় বক, কটে বক, কুঁচ বক, পানকৌড়ি, বিল বাঁকচোসহ কাঁগ, বালিহাঁসসহ নানা জাতের পাখি এসব শিকারীর হাতে ধরা পড়ছে।
এলাকাবাসী জানান, চিংড়ি ঘেরের মধ্যে মাটির ঢিবি তৈরি করে সেখানে জাঁতিকল পেতে রাখা হয়। আগেই শিকার হওয়া দু’-একটি পাখি বেঁধে রাখার পর বাইরে থেকে পাখি এসে বসলেই জাঁতিকলে আটকা পড়ে। তারা জানান, ফুরাডান জাতীয় কীটনাশক পুঁটি বা ছোট ছোট মাছের মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে চিংড়ি ঘেরের ভেড়ীর ওপর রেখে দেয়া হয়। বকসহ বিভিন্ন পাখি ওই মাছ খেয়ে কিছুক্ষণ পর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় তারা পাখিগুলো কুড়িয়ে নেয়। এছাড়া অনেকে রাতের বেলা এয়ারগান ব্যবহারের পাশাপাশি লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য পাখি শিকার করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে এভাবে পাখি শিকার চলছে অবাধে।
১৯৭২ সালের সরকারি অধ্যাদেশ অনুযায়ী বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এ আইনের তোয়াক্কা করছে না কেউ। পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো ও শিকার কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় শিকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নেতারা জানান, শিকারীদের দৌরাত্ম্যে গত কয়েক বছরে অতিথি পাখির আগমন আশংকাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। পাখি শিকারের বিষয়ে আইন রয়েছে জেনেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে শিকারীদের দৌরাত্ম্য এতটুকু কমছে না।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার স্বপন কুমার জানান, বিষয়টি বন বিভাগের কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে। তারপরও সকলকে পাখি শিকার বন্ধে ভূমিকা রাখা উচিত।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ তৌফিকুল ইসলাম জানান, পরিযায়ী পাখি শিকারের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব সামাজিক বনায়নের সাথে জড়িতদের।