সরকারি ঘোষণা ও কাজের অমিল, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

মেঘনা ও দাউদকান্দি (মেঘনা-গোমতী) সেতু মেরামত কাজ করার জন্য সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করার সময় সম্পর্কিত সরকারি ঘোষণা এবং মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তবায়ন কাজে মিল না থাকায় গতকাল শুক্রবার দিনভর চরম দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়েছে যাত্রীদের। দাউদকান্দি সেতুর মেরামত কাজ শুরু করতেও বিলম্ব হয়। সেতু দুটি ৯৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার জের ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। যানবাহনের প্রবল চাপে মেঘনা সেতুর মেরামত কাজ নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩ ঘণ্টা পর শুরু করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দাউদকান্দি সেতুর মেরামত কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। জানা যায়, সরকারি ঘোষণা ও মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নিয়ে সমন্বয়হীনতার কারণেই গতকাল সারাদিন মানুষ কষ্ট পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর উপর দিয়ে যান চলাচল শুক্রবার ভোর ছয়টা থেকে বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। স্বাভাবিকভাবে মানুষ ধরে নেয় শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত সেতু ব্যবহার করা যাবে। যাত্রীদের যাত্রা পরিকল্পনাও সেভাবে সাজানো হয়। কিন্তু তারা পথে এসে বিপদে পড়েন। মূলত শুক্রবার মাঝরাত থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহন বিকল্প রুটে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এতে ঢাকাগামী কিছু গাড়ী বিকল্প রুটে গেলেও বেশিরভাগ গাড়িই আশপাশের ফিডার রোড ব্যবহার করে দাউদকান্দির দিকে চলে যায়। একই ঘটনা ঘটে ঢাকার দিক থেকে যাওয়া যানবাহনের ক্ষেত্রেও। এসব যানবাহন মেঘনা সেতু অতিক্রম করতে পারলেও বেশিরভাগই আটকা পড়ে দাউদকান্দি সেতুতে গিয়ে। এরপর সারাদিন ধরে এসব যানবাহনকে সেতু ব্যবহার করতে দিতে হয়। বন্ধ থাকে কাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, দুইটি সেতু বন্ধ থাকলে যানজট হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি একটু চিন্তা-ভাবনা করে আরও পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা আগে যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হতো, মানুষকে সতর্ক করা হতো—তাহলে গতকালের দুর্ভোগ ও যানজট অনেকাংশে এড়ানো যেতো। মানুষ অহেতুক কষ্টও পেতো না। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জোনের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফরিদউদ্দিন আহমেদ বিকাল ৩টার দিকে ইত্তেফাককে বলেন, মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছু পর মেঘনা সেতুতে কাজ শুরু করা হয়। তবে মেঘনা-গোমতী সেতুর ওপর যানজট থাকায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা আশা করছি কিছুক্ষণের মধ্যে (বিকাল ৪টার দিকে) এই যানজট কেটে যাবে এবং আমরা কাজ শুরু করতে পারব। তিনি আরও বলেন, সেতু দুটির প্রথম পর্বের স্থায়ী মেরামতকালীন সময় মেঘনা সেতুতে চারটি ও দাউদকান্দি সেতুতে তিনটি এক্সপানশন জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রকৌশলী ফরিদউদ্দিন জানান, মেঘনা সেতুতে এ ধরনের এক্সপানশন জয়েন্টের সংখ্যা নয়টি। অন্যদিকে দাউদকান্দি সেতুতে এক্সপানশন জয়েন্টের সংখ্যা ১৩টি। পর্যায়ক্রমে এগুলোর সবই বদলাতে হবে। আমরা আশা করছি শনিবার রাতের মধ্যে ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপর ৪৮ ঘণ্টা সময় দেয়া হবে ঢালাই জমাট বাঁধার জন্য। প্রসঙ্গত এই মেরামত কাজটি করছেন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা। তাদের সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ইত্তেফাকের দাউদকান্দি সংবাদদাতা মো. হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, দীর্ঘ যানজটের কারণে সেতু দুইটির নির্দিষ্ট সময় শুরু করা সম্ভব হয়নি। মহাসড়কে হাজার হাজার যাত্রী সারাদিন আটকে থাকেন। দাউদকান্দি, গজারিয়া ও ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ময়নামতিতে যানবাহনের সারি আটকে বিকল্প সড়কে পাঠানো হয়। দাউদকান্দি হাউওয়ে থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুর মাঝপথের গাড়িগুলোকে মেঘনা-গোমতী সেতু দিয়ে পার করে দেয়া হচ্ছে। তবে ঢাকাগামী পূর্বাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা যানবাহন দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা এলাকা থেকে কুমিল্লার ময়নামতি দিয়ে চলাচলের জন্য ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমাদের চট্টগ্রাম অফিস থেকে সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা-গোমতী সেতু বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে ছেড়ে আসা বাসের যাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিড়ম্বনা এবং নানা স্থানে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের ডোমেস্টিক ফ্লাইটগুলোতে সকালে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যাত্রী চাপ ছিলো অনেক বেশি।