চলতি বছর সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৮
সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার চারবছর পূর্ণ করছে আজ। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি মহাজোট সরকার গঠন করে। প্রথমে ৩১ জন সদস্য নিয়ে ছোট আকারে মন্ত্রিসভা গঠন করলেও বর্তমানে তা বড় আকার ধারণ করেছে। এখন মন্ত্রিসভার সদস্য রয়েছেন ৫১জন, আর উপদেষ্টা আছেন ৬ জন। খোদ আওয়ামী লীগেই এই মন্ত্রিসভা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা আছে। তাদের অনেকেই বলেন, এটি আওয়ামী লীগের নয়, কমিউনিস্ট পন্থীদের সরকার। একসময়ে বামপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এমন ১০ জন বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য।
মহাজোট সরকারের এ মন্ত্রিসভায় দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। নানা সফলতা আর ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই তার সরকার চার বছর পার করে পঞ্চম বর্ষে পা রাখতে যাচ্ছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে মেয়াদের শেষ বছরে পদার্পণ করছে সরকার। এ বছরটি নানা কারণে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
কৃষি, শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তিতে সরকার সাফল্য লাভ করলেও কয়েকটি অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারি বিশেষ করে শেয়ারবাজার, হলমার্ক, পদ্মা সেতু ইত্যাদি সরকারের ভাবমূর্তিকে ম্লান করে দিয়েছে। বিদ্যুত্ উত্পাদনে সরকার সাফল্য দেখালেও কুইক রেন্টাল পদ্ধতি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বোঝা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা নিয়ে দেশে-বিদেশে সরকারের সমালোচনা হচ্ছে। এছাড়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সরকারের জনপ্রিয়তাকে ক্ষুণ্ন করেছে। সাংবাদকি দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, বিশ্বজিত দাস হত্যা, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম ও শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের গুমের ঘটনা নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে সরকার।
শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ নিয়েও সরকারের মধ্যে হতাশা রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার প্রভাবও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়েছে। দেশীয় বাজারে দ্রব্যমূল্যের প্রভাব সীমিত আয়ের মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। তবে চালের মূল্য বর্তমানে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যেও হতাশা আছে। আমদানি কমে যাওয়া, তৈরি পোশাক শিল্প ও শিল্পে বিনিয়োগ না থাকায়, জাতিসংঘ শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রেরিত অর্থ এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে ১২শ ৭৫ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।