গল্প নয় সত্যি
কাজ বনাম ড্রাইভিং
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫০
যারা রোজ সকালে নিজের গাড়ি চালিয়ে কোনো না কোনো কাজে যান তাদের সাথে বিনা কাজে বা শপিংয়ের মতো ভিন্ন কোনো কাজে বেরুনো ড্রাইভারদের পার্থক্য কী? এই প্রশ্নটাকে আপাত দৃষ্টিতে হেয়ালী বলে মনে হলেও আদতে কিন্তু ড্রাইভারদের ধরনের সাথে সড়ক নিরাপত্তার একটা বড় রকম সম্পর্কই রয়েছে। অন্তত এমন একটা ইঙ্গিতই এবার মিলেছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা ‘ব্রেক’ ও বীমা প্রতিষ্ঠান ডাইরেক্ট লাইনের পরিচালিত এক জরিপে। এই জরিপের ফল থেকে দেখা যায় গাড়ি চালানোর সময় যেসব কারণে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে সে ধরনের ঝূঁকিপূর্ণ আচরণের দিক দিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বেরোনো চালকরা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি অপরাধপ্রবণ। ব্রিটেনে পরিচালিত এই জরিপে অংশ নেওয়া চালকদের মধ্যে সিঁকি শতাংশই গাড়ি চালানোর সময় ক্ষুদেবার্তা পাঠানোর কাজটি করেন। আর এ দলের মধ্যে শতকরা ৩১ জন কাজের উদ্দেশ্যে গাড়ি নিয়ে বেরোনোর পর গাড়ি চালাতে চালাতে বার্তা পাঠান। অন্যদিকে কাজের বাইরে এমনি গাড়ি নিয়ে বেরোনো চালকদের মধ্যে ২৮ ভাগের এই প্রবণতা রয়েছে। শুধুমাত্র এদিক থেকেই নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য আচরণের দিক থেকেও এগিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বেরুনো চালকরা। যেমন কাজে বেরুনো চালকদের ১৭ শতাংশ গাড়ি চালাতে চালাতে মেকআপ করা বা শেভ সেরে নেওয়ার মতো কাজটি করেন। তবে অন্য চালকদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১৪ শতাংশ। আবার গাড়ি চালাতে চালাতে ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে কাজে বেরুনো চালকরা ৩৭ শতাংশ এবং অন্য চালকরা ২৪ শতাংশ এবং গতিসীমা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কাজে বেরুনো চালকদের ৫৪ শতাংশ নিয়ম ভঙ্গের বিপরীতে অন্য চালকদের নিয়ম ভাঙার হার ৩৪ শতাংশ। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, গাড়ি চালানোই যাদের দায়িত্ব তাদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা খুব উচ্চ এবং এদের অধিকাংশই নিম্নগতির রাস্তায় গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অপরাধে জড়িত। এ প্রসঙ্গে ডাইরেক্ট লাইনের মুখপাত্র ম্যাট ওয়েন বলেন, ‘যারা গাড়ি চালক হিসেবে দায়িত্বে থেকেও অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি নেন তারা যে শুধু নিজেদের জীবনকে বিপদের মুখে ফেলেন তা নয়, বরং একই সাথে তারা বিপদের মুখে ফেলেন গাড়িতে থাকা অন্যদেরও।’