ফসলের শত্রু:মিলিবাগ বা ছাতরা পোকা

মিলিবাগ বা ছাতরা পোকা দেখতে সাদা তুলার পারকের মত। যা দেখে ভুল করে রোগ মনে হতে পারে। এই পোকাগুলো সাধারণত পাতার নিচের দিকে বা কাণ্ডের শীর্ষে পাতার বোঁটার গোড়ায় দলবদ্ধভাবে বাস করে। সাদা মোমের মত আবরণী দিয়ে এদের সারা শরীর ঢাকা থাকায় সেপ্র করে এদের নিয়ন্ত্রণ করা খুই কঠিন। ছোট ব্রাশ বা ছোট তারের রিং বানিয়ে তা এলকোহলের দ্রবণে ডুবিয়ে পাতার নিচের দিকে ঘষে এদেরকে পাতা থেকে সরিয়ে ফেলা যায় বা মেরে ফেলা যায়। কিন্তু বাচ্চা পোকাগুলো এতই ক্ষুদ্র যে তাদেরকে এভাবে পাতা থেকে সরানো বা মেরে ফেলা সম্ভব হয় না। পাখাবিহীন স্ত্রী পোকা ১.২ থেকে ৫ মিলিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। ডিম থেকে নিমফ বের হওয়ার ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যেই একটি স্ত্রী নিমফ পূর্ণতা লাভ করে। আর ডিম ফোটার ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পরেই পুরুষ নিমফ নিজের শরীরের চারদিকে তুলার মত আবরণ দিয়ে গুটি তৈরি করে তার মধ্যে পুত্তলি অবস্থায় পরিণত হয়। মার্চ-মে মাস থেকে শুরু করে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মাটির ৮০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার গভীরে পুত্তলি অবস্থায় কাটে। পরে এই পুত্তলি থেকেই পাখাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মিলিবাগ বা ছাতরা পোকা বের হয়ে আসে। স্ত্রী পোকা একগুচ্ছে প্রায় ৩০০ টির মত ডিম পাড়ে। ডিমগুলো তুলার মত আঁশ দিয়ে আবৃত থাকে। আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ডিম থেকে নিমফ বের হয়ে আসে। নিমফগুলো ডিম ফুটে বের হওয়ার পরপরই চলাফেরা শুরু করে এবং পাতার রস খাওয়া শুরু করে। পূর্ণাঙ্গ বা অপূর্ণাঙ্গ পোকা উভয়ই গাছের বা পাতার রস খায় এবং অনেক পরিমাণে মধুরস নিঃসৃত করে, যা পরে পাতায় শুটি মোল্ড তৈরি করে। এর কারণে পাতায় খাদ্য তৈরি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে গাছের বৃদ্ধি কমে গিয়ে গাছ দুর্বল হয়ে যায়। পেয়ারা, আম, কাঁঠাল, আঙুর, জাম, লিচু, পেঁপে, ডালিম, কুল, ডুমুর, বাতাবিলেবু, লেবু, তুঁত, আখ, কলাগাছসহ শিম জাতীয় সবজিতে নভেম্বরের শেষ থেকে মে মাস পর্যন্ত এই মিলিবাগ দেখা যায়। পরিবাহিত (সিস্টেমিক) কীটনাশক ব্যবহার করে এদের নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডায়াজিনন খুই কার্যকরী। তবে শর্ত হল, সেপ্র করার সময় পোকার শরীর খুব ভালভাবে ভিজিয়ে দিতে হয়।