সোহাগ গাজীর নৈপুণ্যে দক্ষিণাঞ্চলের নাটকীয় জয়
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৯
অফ স্পিনার সোহাগ গাজীর কৃতিত্বে ইসলামি ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের জয়ের স্বপ্ন ধূলিস্মাত্ হয়ে গেল। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) অপ্রত্যাশিত হলেও দুর্দান্ত জয় পেলো প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল। গাজী দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট শিকার করেন।
গতকাল শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যখন খেলাটি শুরু হয় সেসময় জয়ের জন্য পূর্বাঞ্চলের দরকার ছিল মাত্র ১২৭ রানের। হাতে ছিল আট উইকেট। যে কোন বিচারেই এটি ছিল মামুলি এক টার্গেট। এরকম সহজ সমীকরণের মধ্যেই কাল খেলা শুরু হলে মাত্র দুই ঘন্টার ব্যবধানে শেষ আট উইকেট তুলে নিয়ে পূর্বাঞ্চলকে জয় বঞ্চিত করে দক্ষিণাঞ্চল। পিরোজপুরের সোহাগ গাজী এই আট উইকেটের মধ্যে একাই নেন চারটি। ৩০ ওভারে সোহাগ ছাড়াও পূর্বাঞ্চলের ব্যাটিং অর্ডার তছনছ করেন আব্দুর রাজ্জাক ও পেসার রবিউল ইসলাম শিপলু।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম জয় এটি। দুই রাউন্ডে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিই ড্র হলো। প্রথম ম্যাচে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের কাছে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকার কারণে এক পয়েন্ট পেয়েছিল দক্ষিণাঞ্চল। পূর্বাঞ্চলকে হারানোর পর তাদের সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়ালো ছয় পয়েন্ট।
দক্ষিণাঞ্চলকে জয় এনে দেয়া গাজী সমপ্রতি অনুষ্ঠিত ঘরোয়া সিরিজে ওয়েষ্ট ইন্ডিজকেও প্রচন্ড অস্বস্তিতে ফেলেন। জাতীয় লিগে ব্যাপক নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি নির্বাচকদের নজর কাড়ার পর ঠাঁই করে নেন ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধে গড়া দলে। জাতীয় লিগে দুই ম্যাচ খেলে নিয়েছিলেন ১১ উইকেট, এর মধ্যে ছিল একটি হ্যাটট্রিকও। জাতীয় দলের হয়ে দেখানো নৈপুণ্য তিনি অব্যাহত রাখেন বিসিএলেও।
সোহাগ এ খেলাটিতে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার জয়ের পর বলেন,‘জাতীয় দলে খেলার পর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছি। এটা অনেক বেশি কাজে দিয়েছে। সত্যি কথা বলতে কি, আমি যখন ফাষ্ট ক্লাস ম্যাচ খেলতে যাই, তখন ভুলে যাই আমি জাতীয় দলেও পারফর্ম করেছি’। বিসিএলের শেষদিনে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের বাজে ব্যাটিংয়ের কারণে প্রথম ঘন্টার মধ্যেই হারের আশংকা ছড়িয়ে পড়ে পূর্বাঞ্চলের ড্রেসিংরুমে। সোহাগ অবশ্য জানালেন জয়ের জন্য দক্ষিণাঞ্চলের পরিকল্পনামাফিক খেলার কথা। তিনি বলেন, ‘আমি ও রাজ ভাই (আব্দুর রাজ্জাক) শুরু থেকে পরিকল্পনা করেছি প্রতিটি ওভার যেন মেডেন হয়। আমরা জানতাম এটি করতে পারলে ওদের উপর চাপ স্মৃষ্টি করতে পারবো। তাই ঘটেছে’।
মিরপুরের মাঠে আট নম্বর উইকেটে খেলা হয়েছে। উইকেটটি সাধারণত স্পিনারদের সহায়তা করে থাকে। উইকেট থেকে কিছুটা সহায়তা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এই অফ-স্পিনার। তিনি বলেন, ‘উইকেটে টার্ন ছিল তবে খুব বড় কিছু সাহায্য পাইনি। আমাদের কাজ ছিল, ওদেরকে সহজভাবে রান নিতে না দেয়া। এটি করতে পারায় ওরা চাপে পড়েছে’।
ঘরোয়া ক্রিকেটের পর সোহাগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও শুরু হয়েছিল নজরকাড়া নৈপুণ্য দিয়ে। ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন। অভিষেক টেস্টে প্রথম ইনিংসে ছয়টিসহ ম্যাচে নিয়েছিলেন নয় উইকেট। তার এই উন্নতির পিছনে অবশ্য জাতীয় দলের খন্ডকালিন স্পিন বিশেষজ্ঞ পাকিস্তানী সাকলাইন মুশতাকের অবদান বেশি। এ ব্যাপাারে সোহাগ বলেন, ‘আমি নিজেও উন্নতিটা লক্ষ্য করছি। এর জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম করছি। আমি সাকলাইন ভাইয়ের সাথে কাজ করেছি। তিনি আমার উন্নতি দেখে খুশি। তার সাথে স্বল্প সময় থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি’।
সোহাগের পাঁচ উইকেট ছাড়াও শিপলু ও রাজ্জাক দুটি করে উইকেট নেন।
বিসিএলের তৃতীয় রাউন্ড শুরু হবে ৮ জানুয়ারি।
প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ২৪৮ ও ২৪৮ (এনামুল ৭৩, সৌম্য ৪৮, নাবিল ৬/৮১)।
ইসলামি ব্যাংক পূর্বাঞ্চল- ২৩২ ও ২২৭ (নাফীস ৬৩, রাজিন ৩৮, ধীমান ২৮, সোহাগ ৫/৭৩, রবিউল ২/৬৯, রাজ্জাক ২/৪২)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সোহাগ গাজী।
ফল: প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল ৩৭ রানে জয়ী।