সোনাতলায় একই পরিবারে ১৫জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি
সোনাতলা (বগুড়া) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৩
সোনাতলায় একই পরিবারে ১৫ জন নারী-পুরুষ অন্ধ। সহায়-সম্পদহীন ওই পরিবারের সংসার চলে ভিক্ষা করে।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ছোটবালুয়া গ্রামের মৃত অন্ধ তমির উদ্দিনের ছিল সাত ছেলে ও এক মেয়ে। তারমধ্যে চার ছেলে ও মেয়ে অন্ধত্বের অভিশাপ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা সংসার। এছাড়া পরিবারে বর্তমানে যারা অন্ধ অবস্থায় বেঁচে রয়েছে তারা হলেন: আসাদুজ্জামান (৭৫), বোন এজেদা (৪২), ছেলে মোশাররফ হোসেন (৩৫), মিঠুল (৩০), মেয়ে মোর্শেদা বেগম (৩২), মিঠুলের মেয়ে মিতা খাতুন (৬), মৃত মুংলুর ছেলে সাহেব আলী (২৮), সাহেব আলীর ছেলে শহিদ (৬), মেয়ে শারমিন (৭), ইদ্রিস আলী (৪৫), মেয়ে আমেনা খাতুন (১২), নুরুল ইসলাম (৬৫), ছেলে শরিফুল ইসলাম (১৬), ইউনুছ আলী (৪০) ও মেয়ে ছাবিনা খাতুন (১১)। এদের ভিটাবাড়ি ছাড়া কোন জায়গা-জমি নেই। ভিক্ষাই একমাত্র আয়ের উত্স। ভিক্ষুকদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ঐ পরিবারের উপার্জন বন্ধ হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা আক্ষেপের সাথে বলেন, চেয়ারম্যান, মেম্বর প্রার্থী ও নেতারা ভোটের সময়ে আমাদের খোঁজ-খবর নিতে আসেন। কিন্তু ভোটের পর কেউ আর আমাদের খবর রাখেন না। অন্ধ আসাদুজ্জামান জানান, চোখের চিকিত্সার জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিজ্ঞ চিকিত্সকের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বলেছেন, মাতৃগর্ভ থেকে অন্ধ হওয়ায় চিকিত্সা করে অন্ধত্ব দূর করা সম্ভব নয়। অন্ধরা বলেন, অন্যদের মত স্বামী/স্ত্রী/সন্তান ও আত্মীয় স্বজনসহ দুনিয়ার সবকিছু দেখার ইচ্ছা করে আমাদের। কিন্তু দুর্ভাগ্য। আমাদের মত আর যেন কেউ অন্ধ হয়ে জন্মলাভ না করে।