ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মরণ ফাঁদ-স্পিডব্রেকার

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ দক্ষিণাঞ্চলের মহাসড়কগুলোতে একাধিক স্পিডব্রেকার এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্পিডব্রেকারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ভাসমান বাজার ছাড়াও সড়কের উপর অসংখ্য হাটবাজার গড়ে উঠায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করছেন। মহাসড়কের দুর্ঘটনা রোধে সওজের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় গত অক্টোবর মাসে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হলেও আজ পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগ তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশাল কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে গৌরনদীর ভুরঘাটা পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার মহাসড়কে রয়েছে দুই ডজন স্পিডব্রেকার (গতিরোধক)। এসব স্পিডব্রেকারকে কেন্দ্র করে ভাসমান বাজার ছাড়াও কাশিপুর চৌমাথা, বাবুগঞ্জ বাজার, উজিরপুর বাজার, রহমতপুর, বাবুগঞ্জের নতুন হাট, ইচলাদী, জয়শ্রী, বামরাইল, মাহিলাড়া ও বাটাজোর বাজারসহ একাধিক হাট-বাজার রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা স্পিডব্রেকার নির্মাণে আন্দোলনে নামেন। কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে মহাসড়কের উপর অপ্রয়োজনীয় স্পিডব্রেকার নির্মাণ করাতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু সেই স্পিডব্রেকারই এখন মরণফাঁদে রূপ নিয়েছে। স্পিডব্রেকারকে ঘিরেই আবার গড়ে উঠছে অস্থায়ী হাট-বাজার। এসব হাট-বাজার থেকে সরকারি কোন রাজস্ব আয় না হলেও প্রভাবশালীরা জনগুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কের উপর অবৈধ হাট-বাজার বসিয়ে ইজারা আদায়ের নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ গড়ে তুলেছেন অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যার অধিকাংশই সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ মোহাম্মদ শামস মোকাদ্দেস জানান, সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের গত অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত এক সভায় মহাসড়কে নিয়ম বহির্ভূত স্পিডব্রেকার তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গেলে বিভিনস্থানে প্রভাবশালীরা অন্তরায় সৃষ্টি করে। ফলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেন। তারা বলেন, স্পিডব্রেকারের পরিবর্তে স্পিড রিডিউসার (বিশেষ গতি রোধক) ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা হ্রাস পেতে পারে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এসব ব্যাপারে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নিলে সড়ক দুর্ঘটনা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।