সিলেটে স্পেশাল ইকোনমিক জোন হয়নি ৪ বছরে

শিল্পখাতে ব্যাপক বিনিয়োগের জন্য সিলেটে একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল (স্পেশাল ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ঝুলে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত চার বছর আগে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণাকালে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নানা জটিলতায় আজো ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়নি। ফলে বৃহত্তর সিলেটবাসী এবং প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। বিনিয়োগে ইচ্ছুক দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। উপযুক্ত বিনিয়োগ ক্ষেত্রের অভাবে সিলেট অঞ্চলের ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পাহাড় জমছে। গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও সিলেটে শিল্পখাতে বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। প্রবাসীদের প্রেরিত বিপুল অর্থ এখানে বিলাসবহুল বাড়ি, মার্কেট, হোটেল নির্মাণে ব্যয় হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও চোখে পড়ে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুরম্য দালান। সিলেটের ব্যাংকগুলোতেও রয়েছে স্থানীয়দের অলস টাকার পাহাড়। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সিলেটে শিল্প-কারখানা গড়ে না উঠার জন্য অতীতে এখানে একটি ইপিজেড না থাকাকে অনেকে দায়ী করেছিলেন। পরবর্তীতে ইপিজেডের পরিবর্তে সিলেটে স্পেশাল ইকোনমিক জোন স্থাপনের দাবি উঠে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনা ও সিলেট সদর আসনের প্রার্থী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ক্ষমতাসীন হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিলেটে ইকোনমিক জোন করবেন বলে অঙ্গীকার করেছিলেন। মহাজোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তাই বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসী ও সিলেটবাসী মনে করেছিলেন অল্প সময়ের মধ্যেই ইকোনমিক জোন হবে। অনেকে বিনিয়োগের প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়নি। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন-২০১০ এর খসড়া অনুমোদিত হলেও এব্যাপারে আর খুব একটা অগ্রগতি নেই। ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ কবে শুরু হবে তা অনিশ্চিত। সিলেটে ‘বিনিয়োগ বন্ধ্যাত্ব’ নিয়ে প্রায়ই সভা-সেমিনার হয়। ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারাও এতে যোগ দেন। সকলের দৃষ্টিতেই শিল্প স্থাপনের জন্য সিলেট অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কিন্তু এত সম্পদ-সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সিলেটে উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। অথচ সিলেটে বিনিয়োগ উপযোগী টাকার কোন অভাব নেই। এক হিসাব মতে, সিলেট অঞ্চলে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ছয়শ’ শাখায় অন্ততঃ আট হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। এই বাস্তবতায় সিলেটে শিল্পখাতে বিনিয়োগ স্থবিরতার বিষয়টি সরকারি-বেসরকারি মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিনিয়োগ কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে সিলেটে চেম্বার নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ব্যবসায়ী, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণে অসংখ্য গবেষণা, জরিপ, সভা-সেমিনার হয়েছে। এর আলোকে সংশ্লিষ্ট সকলে প্রায় একমত হয়েছেন যে, সিলেটে ইকোনমিক জোন স্থাপন করলেই বিনিয়োগের স্থবিরতা কাটতে পারে। এব্যাপারে সিলেট-৩ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি এবং সিলেট অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বেসরকারি টাস্কফোর্সের আহবায়ক মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আমি আশাবাদী, সরকারের মেয়াদের মধ্যেই সিলেটে দেশের প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হবে।