তিন মাসের মধ্যে গার্মেন্টস পল্লীর জমি অধিগ্রহণ

প্রস্তাবিত গার্মেন্টস শিল্পপল্লী গড়তে মুন্সীগঞ্জের বাউশিয়ায় জমি অধিগ্রহণের কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যে শুরু হবে। পরিকল্পিত শিল্প এলাকা গড়ে তুলতে এখানে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। সরকার বিদ্যুত্, গ্যাস ও বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের দায়িত্ব নেবে। এছাড়া সেখানে পুলিশ স্টেশন ও ফায়ার স্টেশনসহ আনুষঙ্গিক কাজও সরকার করবে। আর জমি অধিগ্রহণের পর উন্নয়নের জন্য উদ্যোক্তারা ব্যয় করবে। এ জন্য প্রায় হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। বিজিএমইএ থেকে আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে সরকারকে এ বিষয়ে প্রকল্প পরিকল্পনা (প্রজেক্ট প্ল্যান) দেয়ার কথা রয়েছে। তবে গার্মেন্টস পল্লীর কাজটি সরকারের অর্থনৈতিক জোনের আদলে হবে। বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, কীভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে এ পরিকল্পনা আমরা আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে সরকারকে দেব। এর আগে চলতি সপ্তাহের মধ্যে আমরা বিশেষ সাধারণ সভা করে উদ্যোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়টি চূড়ান্ত করব। এর মধ্যে সরকারের সাথেও এ বিষয়ে তিনটি বৈঠক হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার বিদ্যুত্, গ্যাস ও ইটিপি’র দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। উদ্যোক্তারা জমি কিনে উন্নয়নের কাজ করবে। বিজিএমইএ সূত্র আরো জানিয়েছে, ইকোনমিক জোনের আদলে গার্মেন্টস পল্লী বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার ও উদ্যোক্তা দুই পক্ষই এখন খুব কাছাকাছি এসেছে। খুব দ্রুতই এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে। বিজিএমইএ’র এক অনুষ্ঠানে গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনিও দ্রুত গার্মেন্টস পল্লী বাস্তবায়নের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ১১১ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। এ ঘটনা এ খাতের গত ৩০ বছরের সফলতার ইতিহাসে কালিমা লেপন করে। বিশেষজ্ঞরা কারখানাটিতে কমপ্লায়েন্স (কারখানায় কর্ম পরিবেশ) না থাকার জন্য মালিকপক্ষসহ আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকেও দায়ী করেছেন। রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় এ রকম ছড়ানো-ছিটানো শত শত কারখানা রয়েছে। তাজরীনের চেয়ে আরো অনেক দুর্বল কমপ্লায়েন্সের কারখানাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, যে কোন সময়ে এর চেয়েও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে গার্মেন্টস পল্লী গড়ার ইস্যুটি আবার সামনে এসেছে। এর আগে সরকার এ প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) করতে চাইলেও উদ্যোক্তারা সরকারি খরচে উন্নয়নের পর নিজেরা উপযুক্ত দামে কিনে নেয়ার দাবিতে অনড় ছিলেন। ফলে এক যুগ আগে উদ্যোগ নেয়া এ প্রকল্প সফলতার মুখ দেখেনি। জানা গেছে, ২০০১ সালে তত্কালীন সরকার গার্মেন্টস শিল্পপার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০০৩ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এরপর পার্কটির স্থান নির্ধারণ নিয়ে সরকার ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। প্রথমে রূপগঞ্জ, এরপর টঙ্গী, সবশেষে বন্ধ হওয়া আদমজী জুট মিল এলাকায় এ প্রকল্প করার প্রস্তাব আসে। ২০০৭ সালে এ বিষয়ে বিসিক ও বিজিএমইএ’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।