‘সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প যারা ছড়ায় তাদের বর্জন করতে হবে’

আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, তবে আজও বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। এখনো সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে, তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। যারা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ায় তাদের বর্জন করতে হবে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে ‘নির্যাতন দলিল-২০০১, জঙ্গিবাদ তাণ্ডব-২০১২’ এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন-২০০১ গণতদন্ত কমিশন প্রতিবেদন’ এর মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। মোড়ক উন্মোচন শেষে সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের সমন্বয়ক অজয় রায়ের সভাপতিত্বে সংসদের ডেপুটি স্পিকার, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, গবেষকরা বক্তব্য রাখেন। অজয় রায় স্বাগত বক্তব্যে বলেন দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে স্বাধীনতার ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। অধ্যাপক হায়াত্ মামুদ বলেন আমরা সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বুঝতে পারি না। তাই তারা তাণ্ডব করতে পারে। তাদের সনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, সম্প্রদায়িক লড়াইয়ে প্রাণ বিসর্জন দিতে উত্সাহিত করতে পারবে এই দলিল দুটি। এই দুটি দলিল পড়লে ’৭১ এর অপশক্তিকে আবার চেনা যাবে। রাজনীতিবিদ পঞ্চজ ভট্টাচার্য বলেন, রামুর ঘটনা যদি পাকিস্তানিরা ঘটাত তাহলে মানতে পারতাম। আজ স্বাধীন দেশে এমন বর্বরোচিত ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কর্নেল শওকত আলী বলেন, আমরা আজও মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের বিখ্যাত ভাষণে বলেছিলেন আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, আমি চাই জনগণের অধিকার। জনগণের অধিকার বঙ্গবন্ধুর কাছে অনেক বড় ছিল। আজ এদেশে জনগণের অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা যাচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের খতিব ড. সৈয়দ এমদাদ উদ্দিন বলেন, ইসলাম শান্তির শিক্ষা দেয়। রামকৃষ্ণ মিশনের সভাপতি ড. গৌর গোপাল বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটাতে হবে। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, স্বাধীনতার অপশক্তিগুলো এখনো তত্পর আছে। গতবছরের রামুর ঘটনায় মনে হয় আমরা বিজয়ী হয়েও বিজয়ী নই।