টাঙ্গাইলে গণধর্ষণের ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

‘মুখোশের আড়ালে আমরাই ধর্ষণকারী, আমাদের থু-থু দিন।’ ‘টাঙ্গাইলের ধর্ষণের শিকার মেয়েটির মতো আমরাও ভারসাম্যহীন’—ধর্ষণের প্রতিবাদে এই প্রতিবাদলিপি গলায় ঝুলিয়ে অনশনে বসেছেন জুয়েল ও শাতিল নামের দুই বন্ধু। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি পালন করেন। মুখে কালো কাপড় বেঁধে রাস্তার ওপর অনশনে বসেন তারা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন শিমুল নামের আরেকজন নারী। তারা বলেন, আজ আমরা বিবেকের তাড়নায় এখানে এসে বসেছি। আমাদের দেশে অনেক ধরনের দুর্ঘটনা অহরহ ঘটছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন, মিছিল-সমাবেশ করে প্রতিবাদ জানায়। সেটা হয়তো তাদের সংগঠনের কাজেরই একটা অংশ। কিন্তু আমরা নিজেরা পুরুষ হিসাবে লজ্জাবোধ করছি যে, কোন একজন পুরুষই এ ধরনের অপরাধগুলো করছে। আমরা পুরুষ জাতি হিসাবে এই ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। আমাদের মতো আলাদা আলাদাভাবে প্রতিটি পুরুষেরই এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানো দরকার আমাদের মেয়ে সন্তান, বোন কিংবা মায়েদের নিরাপদ সমাজ দিতে। সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি টাঙ্গাইলে গণধর্ষণে জড়িত সব ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে ‘ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ’ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট। গতকাল শনিবার সকালে ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে (৪/এ সংলগ্ন) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে তারা। এতে নেতৃত্ব দেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ। টাঙ্গাইলে গণধর্ষণ-এ জড়িত সব ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির শুরুতে এ আহ্বান জানান সাইফুদ্দিন আহমেদ। ২০১২ সালে ১৫৭ জন এবং প্রতি ২ দিনে নারী গণধর্ষণের শিকার—এ ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে কর্মসূচিতে আপনার-আমার সন্তানের ভবিষ্যত্ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নরপশুদের রুখতে সবাইকে রাজপথে দলমত নির্বিশেষে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান হয়।