খেলাপী ঋণ কমাতে জনতা ব্যাংকে পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য জনতা ব্যাংককে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পরিচালন ব্যয়, মূলধন পর্যাপ্ততা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাংকটিকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গতকাল জনতা ব্যাংকের বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব পরামর্শ দিয়েছে। জানা গেছে, বৈঠকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, খেলাপী ঋণসহ এসব সূচকের উন্নতি করতে জনতা ব্যাংককে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৯ শতাংশ বলে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এর আগে জুন শেষে তাদের খেলাপি ঋণ ছিলো এক হাজার ৬৪১ কোটি টাকা যা ওই সময়ের মোট ঋণের ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। এছাড়া এসময়ে তারা লক্ষ্যমাত্রার আলোকে শীর্ষ ২০ খেলাপি থেকে ঋণ আদায় করতে না পারা, লোকসানী শাখা আশানুরুপ হারে না কমা এবং ঝুঁকি বিচেনায় ছাড়াই গৃহ নির্মাণসহ বেশ কিছু খাতে ঋণ দেয়ার বিষয়টি বিস্ময়কর হিসেবে বলা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গতকালের বৈঠকে জনতা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল ইসলামসহ বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রমতে, রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রুপালী এ চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের আর্থিক শৃংখলা ফেরাতে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলাদা ভাবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। সমঝোতা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেয়। আর নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো চলছে কিনা তা তাদারকীর জন্য ওই চার ব্যাংকে তিনমাস অন্তর একত্রে নিয়ে বসত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক গুলোতে বিশৃংখলা দেখা দেয়ায় নতুন নিয়মে এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আলাদাভাবে বৈঠকে বসা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর আজ বসবে অগ্রণী ব্যাংক ও আগামী কাল রুপালী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। গতকালের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটি ঋণের ঝুঁকি বিবেচনা ছাড়াই এমওইউর শর্ত ভঙ্গ করে ঋণ সম্প্রসারণ করেছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে। তহবিল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তাদের কেন্দ্রীয় ট্রেজারি বিভাগের কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রন নেই বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। আর তহবিল ব্যবস্থাপনা অদক্ষতার কারণে নিয়মিত কলমানিতে ধারদাতা থেকে এখন তারা গ্রহীতায় পরিণত হয়েছে। অনেক সময় নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) করতে ব্যর্থ হচ্ছে যা উদ্বেগজনক। এ অবস্থার উন্নয়নে ট্রেজারি বিভাগে দক্ষ জনবল বাড়ানো, তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, সম্পদের দায় ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে সব ধরনের তথ্য পর্যালোচনার পরামর্শ দেয়া হয়।