ফাইলবন্দী চৌঘাট-জগন্নাথপুর এলাকার কাস্টমস করিডোর

নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরে অনেকটা ছিটকে পড়া ধামইরহাট উপজেলা। এই উপজেলার চৌঘাট-জগন্নাথপুর সীমান্ত এলাকায় কাস্টমস করিডোর প্রকল্পটি দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে ফাইলবন্দী অবস্থায় পড়ে আছে। আওয়ামী লীগ ও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এলাকায় কাস্টম করিডোর চালুর পরিকল্পনা করা হলেও তার কোন অগ্রগতি হয়নি। পাকিস্তান শাসনামলে ঐ এলাকায় ইপিআর ক্যাম্প ও কাস্টম অফিস চালু ছিল। ১৯৭৩ সালে ভারত সরকার লেনদেন বন্ধ করে দেয় যা এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন সময় এই করিডোরটি চালু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল জলিল স্থানীয় জনগণের দাবির মুখে উল্লেখিত স্থানটি পরিদর্শন করে কাস্টম করিডোর চালু করা হবে মর্মে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন পরিদর্শন টিম ঐ স্থানটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে ক্ষমতার পট-পরিবর্তন হলে এ প্রকল্পের আর কোন অগ্রগতি হয়নি। ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে ধামইরহাটে এক জনসভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চৌঘাট পূর্ণাঙ্গ কাস্টম করিডোর স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর আগে ১৯৯৮ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাপাহার উপজেলার খঞ্জনপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধন কালে ও ধামইরহাট এম এম ডিগ্রি কলেজ মাঠে ১৯৯৯ সালে জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন নতুন করে কোথাও যদি কাস্টমস করিডোর চালু করা হয় তার আগেই চৌঘাট-জগন্নাথপুর কাস্টম করিডোর চালু করা হবে। ফলে ব্যবসায়ীমহলে এলাকায় জমি কেনার হিড়িক পড়ে এবং এখনও জমি কেনাবেচা চলছে উচ্চমূল্যে। স্থানীয়রা মনে করছেন, যদি উলেস্নখিত স্থানে কাষ্টম করিডোর চালু করা যায় তাহলে ধামইরহাট ও ভারতের বালুরঘাট শহরের মধ্যে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরত্ব অল্প সময়ে উভয় দেশের মালামাল আনা নেয়া এবং লোকজনের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর হতো। উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউজ্জামান বলেন, কাস্টম করিডর হলে এলাকার উন্নয়ন হবে। ধামইরহাট পৌরসভার কমিশনার রেজুয়ান হোসেন জানান, এলাকার উন্নয়ন হলে জনগনের উন্নয়ন হবে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে।