আন্তর্জাতিক ঘটনা ২০১২
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩০
হিলারি ম্যান্টেল
এমন সময় ছিল যখন নারীদের পুরুষ নামে লিখতে হত। দিনবদলের পালায় এখন স্বভূমিকায় নারী। বিশ্বসাহিত্য অঙ্গনে ব্রিটেনের বুকার পুরস্কার সবচেয়ে সম্মানিত। আর সেটায় দ্বিতীয়বারের মত পেয়ে গেলেন হিলারি ম্যান্টেল। প্রথম নারী হিসেবে তিনি দ্বিতীয়বারের মত ব্রিটেনের সবচেয়ে সম্মানিত সাহিত্য পুরস্কার ম্যান বুকার পান। এটি ছিল ২০১২ সালে ৪৪তম ম্যান বুকার পুরস্কার। প্রতিবছর কমনওয়েলথভুক্ত দেশের ঔপন্যাসিকদের মধ্যে একজন ঔপন্যাসিক এই পুরস্কার পান। এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার পাউন্ড। ‘Bring up The Bodies’ গ্রন্থের জন্য তিনি এই পুরস্কার পান। যার গল্প শুরু হয় ওলফ হলে রাজা সাইমুরের পরিবারের সঙ্গে বিলাস যাপনের সময় জিন সাইমুরের প্রতি গভীর প্রেম এবং সেখান থেকে মানসিক টানাপোড়েন। আর শেষ পরিণতিতে রাণী এ্যানির মৃত্যু।
জয়েস বান্দা
মালাবি দক্ষিণপূর্ব আফ্রিকার ৪৫ হাজার ৭৪৭ বর্গমাইলের একটা দেশ। ১৯৬৪ সালে ৬ জুলাই ব্রিটেনের থেকে স্বাধীন হয়ে পথচলা শুরু করে। ২০১২ সালে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট চলছিল। আর ৬ এপ্রিল ২০১২ হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন প্রেসিডেন্ট বিনগু ওয়া মুথারিকা। এই সংকটের সময় হাল ধরলেন জয়েস বান্দা। ৭ এপ্রিল ২০১২ মালাবির রাজধানী লিলনগয়ের পার্লামেন্টে শপথ হয় তার। জয়েস বান্দা, দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
কিয়ুং-সুক শিন
ম্যান এশিয়ান লিটারেরি প্রাইজ এশীয় লেখকদের জন্য সম্মানজনক পুরস্কার। ২০১১ সালে সেটাই পেলেন দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ুং-সুক শিন। ‘প্লিজ লুক আফটার ম্যাম’- সিউল পাতাল রেলস্টেশনে নব্বই বছর বয়সী মা সো-নই হারিয়ে যায়। তার পরিবার তাকে খোঁজা শুরু করে। তাদের সন্তানদের স্মৃতি এবং মানসিক টানাপোড়েনের গল্প। এই গল্পই এনে দিল কিয়ুং-সুক শিনের ম্যান এশিয়ান সম্মান। বইটা ২০০৯ সালে বের হবার ১০ মাসের মধ্যে ১ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। প্রথম নারী লেখক হিসেবে এই ম্যান এশিয়ান পুরস্কার পেলেন, কিয়ুং-সুক শিন।
পলিন মারোয়া
২৯ মার্চ ১৯৪৯ সালে পলিন মারোয়া যখন পৃথিবীতে এলেন; তখন হাত মুঠি করে মানুষের নেতৃত্বের কথা ঘোষণা করেছিলেন কিনা কেউ জানে না। পলিন মারোয়া ২০০৭ সালে প্রদেশের পার্টি কুইবেকোয়া (পিকিউ) এর নেতৃত্বে আসলেন। পার্টি কুইবেকোয়া প্রদেশ স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক দল। আর সে দলেরই হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১২ তিনি কুইবেকের ৩০তম প্রধানমন্ত্রী হলেন। এই প্রদেশের বিগত ২৯ জন প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন পুরুষ। কানাডার কুইবেক প্রদেশের ৩০তম এবং নারী হিসেবে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলেন, পলিন মারোয়া।