ডিএসই থেকে সরকারের রাজস্ব কমেছে ৪৭ শতাংশ

২০১২ সালে শেয়ারবাজার থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কমিশন কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায় কমে গেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, গত কয়েক বছর শেয়ারবাজার থেকে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব পেয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ও বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় এ খাত থেকে সরকারের আয়ে ধস নেমেছে। ২০১০-এ বাজারে লেনদেনের পরিমাণ যেখানে ছিল প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে তা দুইশ থেকে আড়াইশ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে, ২০১২ সালে ডিএসই থেকে সরকার মোট রাজস্ব পেয়েছে ২৬৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। যা ২০১১ সালে ছিল ৫০১ কোটি ২১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৮ টাকা। অর্থাত্ ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২তে সরকারের রাজস্ব আদায় কমেছে ২৩৬ কোটি ৩০ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা বা ৪৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আরও কমে যেতে পারে। তাছাড়া শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতার অভাবে দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিও প্রভাবিত হতে পারে। এসব বিবেচনায় শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, শেয়ারবাজারের আদায়কৃত যে রাজস্ব ডিএসই সরকারের কাছে জমা দেয় তা দুই খাত থেকে সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ডিএসইর সদস্য বা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কাছ থেকে এবং উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রি থেকে সংগৃহীত। ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ডিএসইর সদস্য বা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কাছ থেকে সমাপ্ত বছরে মোট ১৮২ কোটি ৫০ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৮ টাকা এবং উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রি বাবদ ৮২ কোটি ৪০ লাখ ৩ হাজার ৭৯৬ টাকা সংগ্রহ করে মোট ২৬৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার ৪৭৪ টাকা সরকারের রাজস্ব খাতে জমা দেয়া হয়েছে। ২০১১ সালে ডিএসইর সদস্য বা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কাছ থেকে ৪০৩ কোটি ২৬ লাখ ৩১ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রি বাবদ ৯৭ কোটি ৯৪ লাখ ৯৭ হাজার ২৮৯ টাকা সংগ্রহ করে মোট ৫০১ কোটি ২১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৮ টাকা সরকারের রাজস্ব খাতে জমা দেয়া হয়েছিল।