‘সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে
প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা’
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৪
রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল অঞ্চলের নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট এবং করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা শুক্রবার সাতক্ষীরা শহরের পলাশপেলে চায়না বাংলা শপিং কমপ্লেক্সের হলরূমে অনুষ্ঠিত হয়। দাতা সংস্থা সিমাভি’র সহযোগিতায় স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন উত্তরণ এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, সুপেয় পানির অভাব দেশের গোটা দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলেও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতারা জনমানুষের কল্যাণে এ নিয়ে সোচ্চার নন। রাষ্ট্র মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তখন সে দলের আশীর্বাদপুষ্ট নেতারা সরকারি খাস জমি, পুকুর ও খালগুলো দখল করেন অথবা স্থায়ী বন্দোবস্ত নেন। সাতক্ষীরা জেলায়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে অহরহ। বক্তারা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে রাজনীতিবিদদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে নিরাপদ পানির সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক কালের কণ্ঠের খুলনা ব্যুরো প্রধান গৌরাঙ্গ নন্দী।
উত্তরণের পরিচালক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজাহার হোসেন, জেলা জাসদের সভাপতি কাজী রিয়াজ, জেলা সিপিবি’র সভাপতি আবুল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ আবু নাসিম ময়না, জেলা জাপার সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা লোনা পানির চিংড়ি চাষ, ভূ-গর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, জেলা পরিষদের পুকুরগুলো লিজ দেয়া প্রভৃতি সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, সুপেয় পানি সংকটের জন্য মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলোই প্রধান। সভায় পানি সংকট দূরীকরণে অব্যাহত কর্মপ্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এছাড়া সভায় সুপেয় পানি সংকট দূরীকরণে উপকূলীয় এলাকার বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় রেখে স্বতন্ত্র কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, রাষ্ট্রকে পানি সমস্যা সমাধানে বাধ্য করা, উপকূলীয় অঞ্চলের মিষ্টি পানির সংরক্ষণস্থল হিসাবে বিবেচিত জলাধারগুলোর লিজ বাতিল, সরকারি উদ্যোগে খাসজমিতে অথবা জমি অধিগ্রহণ করে বড় বড় পুকুর কেটে তাতে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করে সরবরাহের ব্যবস্থা করা, রাজনীতিবিদদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করে দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা চালানোসহ বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়।