পটুয়াখালী-২ আসন ধরে রাখতে চান হুইপ ফিরোজ

২০০৩ সালের পর বাউফল আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। গত ২৭ ডিসেম্বর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের কারণে তা স্থগিত করা হয়। তবে শিগগিরই সম্মেলন হবে বলে জানালেন বাউফল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার। এদিকে ‘মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা না থাকলে আগামী নির্বাচনে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে না’—প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর হুইপ আ.স.ম ফিরোজ পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সামপ্রতিক সময় তার নির্বাচনী এলাকায় ঘন ঘন সফর করে সাংগঠনিক কার্যক্রম সুদৃঢ় করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সেইসাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলোর সম্মেলন ডেকে কমিটি গঠনের কাজও সেরে নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে ৬টি অঙ্গ সংগঠনের সম্মেলন শেষ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। বাউফলে প্রবেশ দুয়ার বাউফল-বগা সড়কের সংস্কার কাজ নিয়ে হুইপ ফিরোজ বর্তমানে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের চাপের মুখে আছেন। ওই সড়কটি দীর্ঘ দু’যুগ পর্যন্ত যান ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় জনগণ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সড়কটি সংস্কারে নির্বাচনী ওয়াদাও ছিল হুইপ ফিরোজের। এ সরকারের আমলে সড়কটি সংস্কার করতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণে তার জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের মন্তব্য । তবে হুইপ এ কথা অস্বীকার করে বলেন, সড়কটি সংস্কার করার এখনও সময় আছে। হুইপ ফিরোজ এ আসনের পাঁচবার নির্বাচিত এমপি। একসময় এ আসনটিকে বলা হতো আওয়ামী লীগের দুর্গ । ’৯৬’র নির্বাচন থেকে এ দুর্গে ফাটল সৃষ্টি করে বিএনপি। পরে ২০০১-এর নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করে। ২০০৮-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করলেও আগামী নির্বাচনে প্রেক্ষাপট ভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে। কারণ প্রধান বিরোধী দল থেকে এ আসনে সম্ভাব্য একক এবং শক্তিশালী প্রার্থী শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাউফল বিএনপির সভাপতি। ২০০৮-এর নির্বাচনে ফারুক দলীয় মনোনয়ন পান। ওই নির্বাচনে বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি সহিদুল আলম মনোনয়ন না পেয়ে ফারুকের বিরোধিতা করার পরও ফারুক ষাট হাজার ভোট পান। ২০০৮-এর নির্বাচনের পর সহিদুল আলম এলাকা ছেড়ে চলে যান। অদ্যাবধি আসেননি। এমনকি বিএনপির কোন কমিটির সাথেও সম্পৃক্ত নন। এ প্রসঙ্গে বাউফল বিএনপি সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক বলেন, এ আসনটি মূলত বিএনপির। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হলে অবশ্যই বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করবে। এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যায়। এরা হলেন- মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম ফিরোজ আলম, বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সামছুল হক রেজা, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জোবায়েদুল হক রাসেল, পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবর রহমান মুন্সি। যদিও এদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে হুইপ ফিরোজের কাছে শিষ্য হলেও এসব তরুণ নেতৃত্বকে দলীয়ভাবে হিসাবে রেখেই কাজ করে যাচ্ছেন হুইপ ফিরোজ।