জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে সচেতন হোন

জলাতঙ্ক এক ভয়াবহ ব্যাধির নাম। আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু অবধারিত। তবে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। র্যাবিশে আক্রান্ত প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ের পর কালক্ষেপণ না করে অ্যান্টি র্যাবিশ ভ্যাকসিন (এআরভি) নিলে জলাতঙ্ক হবার আশঙ্কা থাকে না। এআরভি সংরক্ষিত রাখতে হয় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায়। অন্যান্য ওষুধের মতো জীবনরক্ষাকারী এআরভি গ্রহণের আগেও দেখে নিতে হয় এটার উত্পাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ। প্রসঙ্গত, আমার কৈশোরের বন্ধু ইয়াসিনকে পাগলা কুকুরে কামড় দিয়েছিল ১৯৮৭ সালে। নাভিতে ১৪টা ইনজেকশনও (এআরভি) নিয়েছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালের মাঝামাঝি সময় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত করুণভাবে মৃত্যুবরণ করে ইয়াসিন। ধারণা করা হয়, তার গ্রহণ করা ভ্যাকসিনগুলোর অন্তত একটার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং ওগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ছিল না। এখন এআরভি আগের মতো দুষ্প্রাপ্য নয়, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখাটাও কঠিন ব্যাপার নয়। তবুও মানুষ র্যাবিশে আক্রান্ত প্রাণী, বিশেষত পাগলা কুকুরের কামড় কিংবা আঁচড়ে বিভ্রান্ত হয়। এ সময়ের বিভ্রান্তি কঠিন বিপদে ফেলতে পারে। তাই আক্রান্ত স্থানে ১৫ মিনিট ধরে সাবান দিয়ে ধুতে হবে। তারপর ‘টিংচার আয়োডিন’ বা ‘রেকটিফাইড স্পিরিট’ লাগিয়ে অতিদ্রুত স্থানীয় ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। স্থানীয় ডাক্তার এ ব্যাপারে যথাযথ চিকিত্সা দিতে না পারলেও সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন ঠিকই, যা ঐ মুহূর্তে খুবই প্রয়োজন। মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ, বারইয়ারহাট, মীরসরাই, চট্টগ্রাম ৪৩২৬