বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যে কড়া নিরাপত্তায় হরতাল, আটক ৯০

রাজধানীসহ সারাদেশে গতকাল রবিবার বিএনপিসহ ১৮ দলের আহ্বানে সকাল-সন্ধ্যা ঢিলেঢালা হরতাল পালিত হয়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই হরতাল আহ্বান করা হয়। হরতাল কর্মসূচি চলাকালে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাংচুর, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে। অন্যান্য হরতালের তুলনায় গতকাল রাজধানীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে বেলা ১১টার পর রাস্তায় যানবাহন চলাচল বাড়তে থাকে। তবে রাজধানীর সঙ্গে দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। কিন্তু ট্রেন, লঞ্চ, বিমান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। সচিবালয়সহ অফিস-আদালতে কাজকর্ম চলে। ব্যাংকে যথারীতি লেনদেন হয়। হরতালের সময় রাজধানীতে ১৭ পিকেটারসহ সারাদেশে ৭০ জনকে আটক করা হয়। হরতাল শেষে বিকালে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে দেশবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের হরতালের প্রতি সমর্থন দিয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশে হরতাল পালনকালে পুলিশ ৩ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার এবং সাড়ে তিনশ’ জনকে আহত করেছে। হরতালে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। র্যাবের টহল দল গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টহল দেয়। নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ভোর থেকেই পুলিশ অবস্থান নেয়। পুলিশের সামনে দিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা দিনভর অফিসের মধ্যেই অবরুদ্ধ ছিলেন। দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। বিএনপি অফিসের সামনের রাস্তার বিপরীতে অবস্থিত একটি ভবন থেকে এই ককটেল ছোঁড়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ সময় পুলিশ সন্দেহজনকভাবে একজনকে আটক করে। দুপুরে টিকাটুলী মোড় থেকে শিবির একটি মিছিল বের করে মতিঝিলের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ মিছিলকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সেখানে ৮/৯টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। শাঁখারীবাজার এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে পিকেটাররা আগুন ধরিয়ে দেয়। দুপুরে বনানীর ১১ নম্বর রোড এবং তেজগাঁও-গুলশান লিঙ্ক রোডে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সবুজবাগে বৌদ্ধ মন্দিরের কাছে বিএনপির কিছু মহিলা কর্মী রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর করে। হরতালের সকালে মিরপুরে দুটি বাস ও বাবুবাজারে একটি মাইক্রোবাসে আগুন দেয়া হয়। পান্থপথ ও বাড্ডায় পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে পিকেটাররা। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুরে প্রশিকা ভবনের সামনে একটি বাসে আগুন দেয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার ব্রিগেডের একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া মিরপুর কমার্স কলেজের সামনে কাছাকাছি সময়ে ৪/৫টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। একই সময়ে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্করের কাছে হরতাল সমর্থকরা একটি বাসে আগুন দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে একজনকে আটক করে। সকাল ৬টার দিকে মিরপুর ৬ নম্বর বাজারের পাশে ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাসে হরতাল সমর্থকরা আগুন দেয়। এ সময় হরতালকারীদের ছোঁড়া হাতবোমা বিস্ফোরণে বাসের চালক আহত হন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় ১০/১৫ জন হরতাল সমর্থক ৬/৭টি চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় প্রাণভয়ে যাত্রীরা ছোটাছুটি করতে থাকে। ইটপাটকেলের আঘাতে একজন মানবাধিকার কর্মী আহত হন। এরপর হরতাল সমর্থকরা বাসগুলোতে আগুন দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার কিছু আগে মিরপুরের কালসী এলাকায় জামায়াত-শিবিরের ২০/২৫ নেতা-কর্মী ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহ আকবার’ স্লোগান দিয়ে একটি কাভার্ডভ্যান ও যাত্রীবাহী বাস ভাংচুর করে। ভোরে তেজগাঁও কলেজের সামনে ছাত্রদলের কর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পান্থপথ এলাকায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বনানী কাঁচাবাজারের কাছ থেকে নাশকতার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে দুই হরতাল সমর্থককে আটক করে পুলিশ। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাবুবাজারের দুম্বা মসজিদ এলাকায় হরতাল সমর্থকদের একটি ঝটিকা মিছিল বের হয়। মিছিলকারীরা একটি মাইক্রোবাসে আগুন দেয়। এ সময় কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণ এবং একটি কাভার্ড ভ্যান ভাংচুর করে হরতালকারীরা। পরে পুলিশ এসে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকালে বাসাবোর কদমতলা এলাকায় ঝটিকা মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে হরতালকারীরা। এ সময় চটের বস্তায় আগুন দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে হরতালকারীরা। তখন ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ ছিল না। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় বহিরাগত এক যুবককে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে শিক্ষার্থীরা। সোয়া ১০টার দিকে ধানমন্ডি ৬ নম্বরের বেপজা কমপ্লেক্সের সামনে একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা। এর চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, হঠাত্ করে ১০/১২ জনের একটি দল এসে ভাংচুর চালিয়ে দ্রুত পাশের গলি দিয়ে পালিয়ে যায়। পুরনো ঢাকায় কোর্ট প্রাঙ্গণে যুবলীগ ও হরতাল সমর্থনকারী আইনজীবীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বেলা ৪টার দিকে আরামবাগের একটি গলি থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ হরতালের সমর্থনে মিছিল বের হয়। মিছিলটি প্রধান সড়কে এসে নটর ডেম কলেজের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এ সময় চারটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পুলিশ চলে আসলে আরও ২টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা আশ-পাশের গলিতে চলে যায়। হরতালে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া :নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও সিদ্ধিরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের সাথে মিছিলকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়ে ও লাঠিচার্জ করে। এতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আনিচুর রহমান, কনস্টেবল নূরে আলম ও মফিজ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হন। এছাড়া সকাল ১১ টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কের জালকুড়ি এলাকায় বিএনপি সমর্থকরা রাস্তায় পিকেটিং করে। এসময় ৪/৫টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। পুলিশ হরতালকারীদের ধাওয়া দিলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ জন আহত হন। তবে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হরতালে পুলিশের সঙ্গে শিবির কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পিকেটিং করার সময় ৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১ রাউন্ড টিআর সেল নিক্ষেপ করা হয়। দুমকি সংবাদদাতা জানান, পিকেটিং ও মিছিলে বাধা দেয়ায় যুবদল ও ছাত্রদলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। তবে কোন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশের গাড়ি ভাংচুর :বগুড়া প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের রেল স্টেশনের সামনে যুবদলের জেলা শাখার এক নেতার নেতৃত্বে পিকেটাররা পুলিশের একটি পিক-আপ ভ্যান ভাংচুর করে। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহাজোট সরকারের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আনন্দ মিছিল বের করলে সাতমাথায় যুবদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ধাওয়া করে। এসময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। পরে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে যুবদলের নেতা-কর্মীদের পাল্টা ধাওয়া করে। এমপির ওপর লাঠিচার্জ :বরিশাল অফিস জানায়, সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে পিকেটাররা। সকাল ৭ টার দিকে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি’র নেতৃত্বে মিছিল বের হলে পুলিশ নেতা-কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করে। একপর্যায়ে এমপি সরোয়ারের উপর লাঠিচার্জ শুরু করলে নেতা-কর্মীরা বেষ্টনী দিয়ে তাকে রক্ষা করেন। লাঠিচার্জে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা পারভেজ আকন বিপ্লব, মাহফুজুর আলম মিঠুসহ ৮ জন আহত হন। গুরুত্বর আহত মিঠুকে শেরে-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আটক করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, বেল্লাল হোসেন, জাকির সিকদার ও ওয়াসিম খানকে। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এমপি সরোয়ার তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ অহেতুক লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ করেন। মাগুরা প্রতিনিধি জানান, বিএনপি-জামায়াতের ৬ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হরতাল চলাকালে শহরের হালিম মার্কেট এলাকায় কৌশিক হোসেন (৩২) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ। তাকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সে জেলা যুবদলের নির্বাহী সদস্য। যানবাহনে হামলা, ভাংচুর ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, হরতালের সমর্থনে ছাত্রশিবির শহরের চরপাড়া এলাকায় সকালে ঝটিকা মিছিল করেছে। এসময় শিবির ক্যাডাররা বেশ কয়েকটি টেম্পো ভাংচুর করে ও রাস্তায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ এসে আগুন নেভায়। পাবনা প্রতিনিধি জানান, বেলা এগারোটার দিকে মাসুম বাজার এলাকায় ইউনিলিভারের দু’টি টেম্পু (ঢাকা মেট্রো-ট ৭৮৯ এবং ঢাকা মেট্রো-প ০৫-০৩৩৪) ভাংচুর করে পিকেটাররা। এসময় ঘটনাস্থলের আশপাশে পুলিশ ছিল না বলে জানা গেছে। খুলনা অফিস জানায়, সকালের দিকে পিকেটাররা নগরীতে একটি পিকআপ ভ্যান ও বনফুল পরিবহনের একটি বাস ভাংচুর করে। পিকেটিং করার দায়ে খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আলমসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দিনভর নগরীর কেডিঘোষ রোডস্থ বিএনপি অফিসে প্রবেশের দুটি পথ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করে রাখে পুলিশ। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, হরতাল চলাকালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের কোন নেতা-কর্মীকে নগরীর কোথাও পিকেটিং বা মিছিল করতে দেখা যায়নি। তবে চকবাজার, কাজীর দেউরি ও কদমতলী এলাকায় দুয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা। বিকালে নগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে যুবদল ও জামায়াতের ২ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হরতালে ৫টি গাড়ি ভাংচুর করে পিকেটাররা। জেলার বুড়িচংয়ে পিকেটাররা একটি মাইক্রো ভাংচুর করে। ব্রাহ্মণপাড়ায় একটি ওষুধ কোম্পানির গাড়ীসহ (চট্ট-মেট্রো-চ-১১-০৬৪০) ১টি সিএনজি, ২টি অটোবাইক ভাংচুর করা হয়। গাড়ি ভাংচুর করার অপরাধে উপজেলা যুবদল সভাপতি শাহজাহান সাজুকে আটক করেছে ব্রা?হ্মণপাড়া থানা পুলিশ। এছাড়া ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে হরতাল বিরোধী মিছিল করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। রাজশাহী অফিস জানায়, ভোর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে পিকেটিং করছে বিএনপি ও জামায়াতসহ ১৮ দলের শরীক দলের নেতা-কর্মীরা। সকাল ৭টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও রাজশাহী মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে বিএনপি নেতা-কর্মীরা নগরীর রাজারহাতা এলাকা থেকে হরতালের সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি লোকনাথ স্কুল ও সোনাদীঘির মোড় হয়ে মালোপাড়ার দলীয় কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ বাধা দেয়। এসময় পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর কথা কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশ মিনুসহ বিএনপি নেতা-কর্মীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে তারা দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। পুলিশ মিনুসহ বিএনপি নেতা-কর্মীদের দিনভর দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। এদিকে জামায়াতে ইসলামী হাদিরমোড় এলাকায় রাজশাহী নাটোর মহাসড়কে হরতালের সমর্থনে মিছিল ও রাস্তায় গাছেরগুঁড়ি ফেলে পিকেটিং করেছে।