বিএনপি নেতার হ্যান্ডকাপ পরা লাশ কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার

কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া এলাকা থেকে গত শনিবার রাতে রাজধানীর ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মজুমদারের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারের সময় লাশের হাতে ইংরেজিতে পুলিশ লেখা হ্যান্ডকাপ লাগানো ছিল। নিহত রফিকুলের সহধর্মিণী আয়েশা সিদ্দিকা ইত্তেফাককে জানান, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার আনন্দনগর গ্রামে তার বাবার বাড়ি। শুক্রবার সেখানে বেড়াতে এসেছিলেন রফিকুল। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে র্যাব পরিচয়ে কয়েকজন রফিকুলকে গ্রেফতার করে। তিনি বলেন, আমি ঢাকাতে ছিলাম। শনিবার গভীর রাতে টিভি নিউজের মাধ্যমে জানতে পারি রফিকুলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি দাবি করেন, র্যাবই তাকে গ্রেফতারের পর হত্যা করেছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদিন ইত্তেফাককে জানান, বাজারে পুলিশ লেখা হাতকড়া কিনতে পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে সন্ত্রাসীরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। কুমারখালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে সংবাদ পেয়ে আদাবাড়িয়া এলাকা থেকে হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় রফিকুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, নিহত রফিকুলের মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন ও গলায় কাপড় পেঁচানো ছিল। তার হাতে যে হ্যান্ডকাপ ছিল তাতে ‘পুলিশ’ শব্দটি খোদাই করা রয়েছে। নিহতের শাশুড়ী লিপি বেগম জানান, তার জামাই শুক্রবার দুপুরে নিজ মাইক্রোবাসযোগে আনন্দনগর গ্রামে আসেন। শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ৭/৮ জন কালো পোশাক পরা লোক নিজেদের র্যাব বলে পরিচয় দিয়ে দেয়াল টপকে বাড়িতে ঢোকে। ঘরের ভিতর থেকে জামাইকে ধরে হাতে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে নিয়ে যায়। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে লাথি মেরে ফেলে দেয় তারা। তারপর সাদা রংয়ের মাইক্রোতে করে তাকে নিয়ে যায়। এরপর তার লাশ উদ্ধার হলো। তিনিও দাবি করেন র্যাবই রফিকুলকে হত্যা করেছে। রফিকুলের গাড়ি চালক আমির হোসেন জানান, ঘটনার সময় তিনি মোড়ের দোকান থেকে পান খেতে বাড়ির বাইরে যান। ফিরে এসে জানতে পারেন স্যারকে (নিহত রফিকুল) র্যাব তুলে নিয়ে গেছে। শৈলকুপা থানা পুলিশ জানায়, লোকমুখে তারা শুনেছেন রফিকুলকে কে বা কারা তুলে নিয়ে গেছে। তাত্ক্ষণিক তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা বলেন, এ ব্যাপরে রফিকুলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুলিশকে কিছুই জানায়নি। ফলে তারা আর এগোতে পারেননি। নিহত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের ভায়রা সাইদুর রহমান জানান, রাতে কুমারখালি থানার ওসি তাদের জানান, আদাবাড়িয়া গ্রামে একজনের লাশ পাওয়া গেছে। এ লাশ রফিকুল ইসলামের কিনা তা শনাক্ত করতে যেতে বলেন। রফিকুলের অপর ভায়রা আবু সাঈদ জানান, যারা গ্রেফতার করে নিয়ে যায় তাদের সবার কালো পোশাক পরা ছিল এবং র্যাব লেখা ছিল। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ-৬ র্যাব অধিনায়ক হামিদুল হক ইত্তেফাককে জানান, ভুয়া র্যাব সেজে সন্ত্রাসীরা রফিকুলকে অপহরণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ র্যাব এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নয়। নিহত রফিকুলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সমপ্রতি ঢাকার হরতালে গাড়ি ভাংচুর মামলার আসামি ছিলেন রফিকুল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রায়ই রাজনৈতিক মামলা হতো। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি ঢাকার বঙ্গবাজারে গার্মেন্টস পণ্য কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। তার দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী দীর্ঘদিন আগেই রফিকুলের ঘর ছেড়েছেন। সে পক্ষের ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। তারা হলো- রকি (১৫), পিংকি (১৩), রাকিব (১১) ও রিংকি (৯)। দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকীর একটি সন্তান। তার নাম মাহিন (৪)। তার বাবা হাজী মনিরুজ্জামান। কদমতলী থানার শনির আখড়ার ৩৮ জিয়া সরণীর দোতলায় তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি এলাকায়। তার ভাই মফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, তার ভাই রফিকুলকে র্যাব দিয়ে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রফিকুল ইসলাম বঙ্গবাজার মার্কেট কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। র্যাবের ঝিনাইদহের ক্যাম্প কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার হামিদুল হক জানান, রফিকুল ইসলাম গ্রেফতার প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঝিনাইদহ র্যাব সম্পৃক্ত নয়।