মার্কেটের মালিকানা নিয়েই রফিক খুন!

বিএনপির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মজুমদারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, মার্কেটের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবাজারের কাছে নির্মিত ঢাকা সুপার মার্কেটের মালিকানা নিয়ে এর আগে ওই মার্কেটের মালিক দাবিদার ওয়াজিউল্লাহ গুম হন। এখনো তিনি নিখোঁজ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ নম্বর আসামি ছিলেন রফিকুল ইসলাম মজুমদার। বর্তমানে মার্কেটটি রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিটি পরিচালনা করছে। মার্কেট কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান এক সময় রফিকুল ইসলামের আস্থাভাজন ছিলেন। রফিকুল নিজেও মার্কেট কমিটির সহ-সভাপতি। কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে সমপ্রতি রফিকুলের সঙ্গে অন্য নেতাদের দ্বন্দ্ব চলছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা সুপার মার্কেটের (বর্তমান নাম ঢাকা মহানগর কমপ্লেক্স) মালিক দাবিদার ও মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি পরিচয়দানকারী হাজী মোহাম্মদ ওয়াজিউল্লাহ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সালেহা বেগম একটি মামলা করেন। মামলায় মীর আল-মামুন, আব্দুর রহমান, গোলাম মাওলা, জালাল আহম্মদ, রফিকুল ইসলাম মজুমদার, কালা রফিক, কিবরিয়া ও জাহাঙ্গীর আলমকে আসামি করা হয়। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে আসামিদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়। পরে ডিবি পুলিশ আসামিদের নাম বাদ দিয়ে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ঢাকা সুপার মার্কেটের মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয়ে কথিত ভিকটিম হাজী ওয়াজিউল্লাহ ও বিবাদী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন হতে মনোমালিন্য ও বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। এই মামলার বাদী সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আসামিদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে এজাহারে উল্লেখ করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে এই মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষী মিলেনি।’ এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল হান্নান বলেন, ব্যবসায়ী ওয়াজিউল্লাহকে খুঁজে পেতে বহু চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে অপহরণের যে অভিযোগ করা হয়েছিল, এ ব্যাপারে কোন প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। এ কারণে যেসব আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের সঙ্গে এ ঘটনার কোন সংশ্লিষ্টতা মিলেনি। সম্প্রতি ঢাকা সুপার মার্কেটের মালিকানা নিয়ে আবারো দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মজুমদার ওই মার্কেটের মালিক সমিতির সভাপতি হওয়ার জন্য কমিটির মধ্যে দুইটি গ্রুপের সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক লে.কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, ঢাকা সুপার মার্কেটের মালিকানা নিয়ে দু পক্ষের দ্বন্দ্বের বিষয়টি র্যাব জানতে পেরেছে। তবে এই দ্বন্দ্বের জের ধরে রফিকুল ইসলাম মজুমদার খুন হয়েছেন কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, মার্কেটের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে রফিকুল ইসলাম মজুমদার খুন হয়েছেন কিনা তদন্ত করছে পুলিশ।