সংবিধানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি চাই :সন্তু লারমা
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৬
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি নেই। সংবিধানে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে বসবাসকারী সবাইকে বাঙালি বলা হয়েছে। কিন্তু আমি তো বাঙালি নই। আমি তো চাকমা। আমার স্বীকৃতি কই। আমি আমার স্বীকৃতি চাই। তিনি বলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ একটি বিশেষ দলের রাজনীতি করে। কিন্তু ওই বিশেষ দলটি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির কথা বললেও তাদের সময়েই সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে, নিপীড়িত হচ্ছে। তিনি শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত ময়দানে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যে দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে না, সে দল করবে কেন? তিনি এ ব্যাপারটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য সংখ্যালঘুদের পরামর্শ দেন। সন্তু লারমা বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, বৈষম্য বঞ্চনা সামপ্রদায়িকতার অবসান, আদিবাসী উপজাতিসহ অনগ্রসর জনগণের উপর শোষণ নির্যাতন বন্ধে অসামপ্রদায়িক চেতনায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, সমাজে দু’টি শ্রেণী আছে। এর একটি শাসক। শাসক শ্রেণী তাদের স্বার্থের জন্য রাজনীতি করে। এ বিষয়টি মাথায় রেখে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদকে পথ চলার পরামর্শ দেন তিনি।
জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক এডভোকেট পীযুষ কান্তি চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক কামাল লোহানী বলেন, যুদ্ধাপরাধ বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে। জামায়াত-শিবির কোরআনের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, রামুর ঘটনা কোনো দলীয় আক্রমণ নয়। এটা গণতন্ত্রের বিপক্ষের মৌলবাদী গোষ্ঠীর আক্রমণ। তিনি রামুর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।
সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, সকল সমপ্রদায়ের মানুষের সমমর্যাদার ভিত্তিতে সার্বিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমাদের স্বাধীনতা। সে লক্ষ্যকেই সামনে রেখে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। তিনি ৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেন, সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। জাতির দাবির প্রেক্ষিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে পরবর্তীতে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মূলত বৈষম্য তৈরি করা হয়। তিনি সরকারের কাছে এ বৈষম্যের অবসান দাবি করেন।