কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী হত্যার আজ দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৯
কুড়িগ্রামের অনন্ত-পুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ফেলানী হত্যা-কাণ্ডের ২য় বছরপূর্তি ৭ জানুয়ারি। এই দিনে ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়ায় নির্মমভাবে গুলি করে কিশোরী ফেলানীকে হত্যা করে ভারতীয় বিএসএফ। বিশ্বমানবতা বার বার হোঁচট খায় সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। সেদিনের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শুধু ফেলানির পরিবারকে নয়, বিশ্ব বিবেককে আজো কাঁদায়। ফেলানী হত্যার দু’বছর পূর্তিতে মা জাহানারা বেগম ও বাবা নূর ইসলাম সীমান্ত হত্যা অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের সরকার সমঝোতা করেছিল সীমান্তে আর উস্কানীতে হত্যা নয়। কিন্তু সেই সমঝোতা কাগজেই থেকে গেছে। আবারো গুলি হচ্ছে, মারা যাচ্ছে মানুষ। কুড়িগ্রাম জেলার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা ২৬৮ কি.মিটার সীমান্তের মানুষকে জীবিকার তাগিদে সীমান্ত লাগোয়া জমিতে কাজে গেলেই হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতনের শিকার হতে হয় প্রায়ই। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তে ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ৭ বাংলাদেশীর, আহত ১ জন, গোলাগুলি হয়েছে ৫৬ বার। এই জেলার বিএসএফের হাতে আটক হয়েছে ১১১ জন, এখনও ভারতের জেলে বন্দি রয়েছে ৮১ জন মানুষ। আবার ১৪ জন ভারতীয় আটক হয়ে বাংলাদেশের জেলে থাকার পর অতিসম্প্রতি ফেরত দেয়া হয়েছে ৮ জনকে। এখনো জেলে রয়েছে ৬ জন ভারতীয়। তবে সীমান্তবাসীদের ধারণা ভারতীয় বিএসএফ’র হাতে আটকের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। দুই দেশের সমঝোতা চুক্তি ও বার বার সীমান্তে গুলি বন্ধের সমঝোতা ও ঘোষণা হলেও আশ্বস্ত হতে পারে না তারা। তারপরও সীমান্তে গুলি চালায় বিএসএফ, মৃত্যু হয় নিরীহ মানুষের। আতংক কাটে না সীমান্তবাসীর।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি শুক্রবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে আধাঘন্টা ছটফট করে করুণ মৃত্যু হয় কিশোরী ফেলানীর। সকাল পৌনে ৭টা থেকে নিথর কাঁটা তারের উপর ঝুলে থাকে সাড়ে ৪ ঘন্টা। পরে বিএসএফ লাশ নামিয়ে ভারতে নিয়ে যায়।