রাজধানীর পার্শ্ববর্তী তিন জেলায় অবৈধ ইটভাটা
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪১
পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই রাজধানীর পার্শ্ববর্তী তিন জেলায় ২৬০টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। জেলা তিনটি হচ্ছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ। ইটভাটার কারণে একদিকে এলাকার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অপরদিকে পার্শ্ববর্তী নদীর মাটি অবৈধভাবে কেটে নিয়ে এসব ইটভাটায় ইট তৈরি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিন জেলার সাথে পরিবেশ অধিদফতরের চলছে টানাপোড়েন। সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানায়, ইটভাটার মালিকরা নেতৃস্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। পরিবেশ অধিদফতর থেকে অনুমতি নিয়ে ইটভাটা করতে হয় সে বিষয়ে স্থানীয়ভাবে মালিকদের অবহিত করা হলেও তাতে তারা কোন ধরনের কর্ণপাত করেনি। আর এ বিষয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। কমিটি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করলেও তাতে কোন কাজ হচ্ছে না।
তিন জেলা থেকে পাঠানো তথ্যে দেখা যায় ১৭৫টি ইটভাটা রয়েছে শুধু ময়মনসিংহ জেলাতেই। গাজীপুরে ৬৪টি এবং টাঙ্গাইলে ৩৯টি। সূত্র জানায়, ২৬০টি ইটভাটার মধ্যে একটিরও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই। এমন কি ইটভাটা করার আগে মালিকরা স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের সাথে কোন যোগাযোগ করেননি। ইটভাটার কারণে ইতোমধ্যে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আর তা নিয়ে তিন জেলা থেকে বিস্তর অভিযোগ আসছে।
এদিকে সংসদীয় কমিটি বলে দিয়েছে, পরিবেশ অধিদফতরের অনাপত্তিপত্র নেই এমন ধরনের ইটভাটা অপসারণ করতে হবে। একই সাথে অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করে যেসব মালিক নদীর মাটি কেটে নিয়ে ইট তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরামর্শও দেয়া হয়। সূত্র জানায়, এরপরও তিন জেলায় যেসব অবৈধ ইটভাটা রয়েছে তার মালিকরা নদী তীরের মাটি কেটে নেয়া বন্ধ করেনি। পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে সংসদীয় কমিটিকে বলা হয়েছে তারা তিন জেলার প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সূত্র আরো জানায়, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এবং তিন জেলার সংশ্লিষ্ট উপজেলার এসিদের (ল্যান্ড) সাথে শিল্প কল-কারখানা ও ইটভাটা স্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তিন জেলায় যত্রতত্রভাবে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। এ অবস্থা সামাল দিতে না পারলে অচিরেই পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসাবে দেখা দেবে। পরিবেশ অধিদফতরকে তিন জেলায় গড়ে উঠা যেসব শিল্প কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার নেই সেগুলো দ্রুততার সাথে চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, যেসব শিল্প-কারখানার নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার নেই এবং অব্যাহতভাবে পরিবেশ নষ্ট করছে তার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার পদক্ষেপ নিতে পরিবেশ অধিদফতরকে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিবেশের ক্ষতি করার জন্য কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।