রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত চার বছরে ৪১টি বিভাগ ও ৪টি ই্নস্টিটিউটের বিজ্ঞাপিত ২০৪টি পদের বিপরীতে ৩২৯ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগে দলীয় প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়ার প্রথা চালু থাকলেও এবারে এসব নিয়োগে অর্থের লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আর এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থের লেনদেনসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের (এসি) সভা বয়কট করেছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাদা দল এবং সরকার সমর্থিত হলুদ দলের একাংশের শিক্ষকরা। এছাড়া যে সকল শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ১২০ জন হিন্দু শিক্ষক ব্যতিত অধিকাংশ শিক্ষকই আওয়ামী লীগের পরিবারের সদস্য নন। এমনকি তাদের মধ্যে অনেকেই বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে বিজ্ঞাপিত পদের অতিরিক্ত এসব নিয়োগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ কোটিরও বেশি টাকা। সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৪৪৬তম সাধারণ সভায় নিয়োগ প্রাপ্তদের মধ্যে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের বিজ্ঞাপিত ৬টি পদের বিপরীতে ১০ জন, আরবি বিভাগের বিজ্ঞাপিত ৬টি পদে ২ জন স্থায়ীসহ ৯ জন, ফোকলোর বিভাগের ৩টি পদে ৩ জন, ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন এন্ড রিসার্স (আইইআর) ৩টি পদে ৫ জন ও নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগে ১ জন বলে জানান হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিয়োগ দিয়ে চলেছে। তাছাড়া সিন্ডিকেট সদস্য ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. আমজাদ হোসেন, প্রফেসর মো. নজরুল ইসলাম ও ড. মো. মোশাররফ হোসেন এসব নিয়োগের বিরোধীতা করে নিয়োগের সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট দেন। কট্টর আওয়ামীপন্থি এবং জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর চৌধুরী সরওয়ার জাহান সজল বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থের লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কিন্তু তারপরও ভিসি অবলীলায় নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।