বঙ্গোপসাগরে অর্ধশত ট্রলারে ডাকাতি
আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৪
কক্সবাজার ঘেঁষা বঙ্গোপসাগরে গত এক সপ্তাহে অর্ধশত মাছ ধরার ট্রলারে (ফিশিং ট্রলার) ডাকাতি হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার রাতে কক্সবাজার শহরের লাবনী পয়েন্ট থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে ডাকাতির শিকার হয় শহরের ব্যবসায়ী আবু তাহের কোম্পানীর মালিকানাধীন এফবি শওকত-৫। ট্রলারটি ১৭ মাঝিমাল্লাসহ নিখোঁজ রয়েছে।
আবু তাহের কোম্পানী জানান, তার ট্রলারটি গত ২৭ ডিসেম্বর ১৭ মাঝিমাল্লা নিয়ে ৭-১০ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরতে যায়। মাছ শিকার শেষে তীরে ফেরার সময় শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বোট মাঝি ছৈয়দ আলম তাকে মোবাইল ফোনে জলদস্যু আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান। এসময় মোবাইল ফোনে দুর্বৃত্তদের গুলির আওয়াজও শোনা যায়। এর কিছুক্ষণ পর ট্রলার মাঝির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর ২ দিন বঙ্গোপসাগরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ট্রলারটির কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে অর্ধশত ফিশিং ট্রলার ডাকাতি ও অপহরণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার শহর এবং আশপাশের রয়েছে অন্তত ২৭টি ট্রলার। জলদস্যুরা অনেক ট্রলার মাঝিমাল্লাসহ অপহরণ করে নিয়ে গেছে। তাদের মুক্তির জন্য মোটা অংকের পণ দাবি করা হচ্ছে।
ট্রলার মালিক সমিতি সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে ডাকাতির শিকার ট্রলারসমূহের মধ্যে শহরের নুনিয়াচড়ার আবদুল হক কোম্পানীর মালিকানাধীন এফবি জুবায়দুল হক, শহরের রুমালিয়ারছড়ার দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন এফবি গ্লোব ও এফবি জাহানারা, শহরের মাঝিরঘাটের ছৈয়দ আলমের মালিকানাধীন এফবি জুনায়েদ, শহরের পেশকারপাড়ার আবদুল মাবুদ সওদাগরের মালিকানাধীন এফবি আসফি, শহরের নতুন বাহারছড়ার আবছার কামালের মালিকানাধীন এফবি আলমাছকে, মনজুর-টিপুর মালিকানাধীন এফবি আবিদা সুলতানা ও এফবি তাসমীন, মোহাম্মদ কাইয়ুম সওদাগরের মালিকানাধীন এফবি রিফাত, শহরের ৬নং ঘাটের রশিদ সওদাগরের মালিকানাধীন এফবি রীমা, পেশকারপাড়ার ফজল করিমের মালিকানাধীন এফবি হাসান, রুমালিয়ারছড়ার জয়নাল আবেদীনের মালিকানাধীন এফবি খাজা-১, টেকপাড়ার মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন এফবি সিফাত, খুরুস্কুলের নুরুল হুদা মেম্বারের মালিকানাধীন এফবি ভাই ভাই, টেকপাড়ার আবু সুলতান নাগু কোম্পানীর মালিকানাধীন এফবি ছেনোয়ারা, টেকপাড়ার জয়নাল আবেদীন সওদাগরের মালিকানাধীন এফবি নাজমা, শহরের মাঝিরঘাটের রফিকউদ্দিনের মালিকানাধীন এফবি আল নূর, পেশকারপাড়ার আবদুল খালেকের মালিকানাধীন এফবি তান্নি, রুমালিয়ারছড়ার আবদুর রহিম সওদাগরের মালিকানাধীন এফবি ইমন, পাহাড়তলীর আমির সওদাগরের মালিকানাধীন এফবি ভাই ভাই, খুরুস্কুলের আকবর বহদ্দারের মালিকানাধীন এফবি নূর, নুনিয়াচড়ার হাজী নজির আহমদের মালিকানাধীন এফবি জাফর আলম, সাহাবউদ্দিনের মালিকানাধীন এফবি শাহীন, পেশকারপাড়ার জাফরের মালিকানাধীন এফবি লিলি, লাইট হাউস পাড়ার শাহেদের মালিকানাধীন এফবি আল্লাহর দান ও শহরের বাহারছড়ার সেলিমের মালিকানাধীন এফবি ভাই ভাই। এছাড়া মহেশখালী, কুতুবদিয়া, উখিয়া ও টেকনাফের উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগরে আরো অজ্ঞাতসংখ্যক বোট ডাকাতির শিকার হয়েছে এবং অসংখ্য ট্রলার মাঝিসহ অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবিও করা হচ্ছে বলে জানান কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ।
ট্রলার মালিকরা জানান, কক্সবাজার ঘেঁষা বঙ্গোপসাগর এখন সোনাদিয়া, বাঁশখালী ও কুতুবদিয়ার জলদস্যু বাহিনীর হাতে জিম্মি। এ কারণে সাগরে যেতে মাঝিমাল্লারা এখন ভয় পাচ্ছে। অনেকে আতংকে মাছ ধরার পেশা ছেড়ে দিয়ে ভিন্ন পেশা নিয়েছে।