দিনাজপুরে শৈত্যপ্রবাহ
৫০ হাজার শ্রমিক বেকার
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫০
দিনাজপুরে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে জেলার ১৩টি উপজেলা। তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছে না মানুষ। গত এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি। এদিকে রোদের অভাবে জেলার প্রায় ৬ হাজার চাতাল ও ৩৫টি ইট ভাটার উত্পাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এসব চাতাল ও ইট ভাটার মালিকগণ একদিকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে যেমন তেমনি শিল্প-কারখানার প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।
আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে এই শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট চাতাল ও ইট ভাটা মালিকরা জানিয়েছেন। এদিকে চাল উত্পাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন চাতাল ও ইট ভাটাতে দেখা গেছে সিদ্ধ করা শত শত মণ ধান চাতালে স্তূপাকারে পলিথিন-ত্রিপাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে ইট ভাটাগুলোতে। এছাড়াও উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে বোরো বীজতলা ও কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
দিনাজপুর অটো রাইস মিলের মালিক সিদ্দিক গজনবী জানান, ৩ জানুয়ারির পর থেকে জেলায় শৈত্য প্রবাহের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। দিনের বেলা সূর্য দেখা যায়নি। সেসাথে রাতে কুয়াশার সঙ্গে বৃষ্টির মত পানিও পড়ছে। এতে করে চাতালে সিদ্ধ করা ধান শুকানো যাচ্ছে না। ইট ভাটাগুলোতে নতুন তৈরিসহ কাঁচা ইট শুকানো যাচ্ছে না। এসব চাতাল ও ইট ভাটায় দৈনিক হাজিরা মাসিক বেতন প্রদানের ভিত্তিতে হাজার হাজার শ্রমিকরা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। রোদ্রের উপর নির্ভর করে চাতাল-ইট ভাটার উত্পাদন আর শ্রমিকের জীবন-জীবিকা।