ভোলার হেলিপ্যাডে বেদে বসতি হুমকিতে জনস্বাস্থ্য
বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৮
এখন মানুষ আর সিংগা লইতে চায় না। তাই আগের মত আর গ্রাম থ্যেইকা চাউল, ডাউল পাই না। তাই আমরা খারাপ অবস্থায় আছি-এমন কথাই বললেন ভোলার বোরহানউদ্দিন হেলিপ্যাডে বসবাসকারী মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার বেদে সর্দারের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমসহ (৭০) অনেকে।
জানা যায়, দুই যুগ পূর্বে বোরহানউদ্দিন বাজারের উত্তর পাশে প্রায় ১০ একর জমিতে নির্মিত হয় বোরহানউদ্দিন হেলিপ্যাডটি। নির্মাণের পর থেকে বিভিন্ন দখলদারদের পাশাপাশি বেদে বহরের দল সেখানে নিয়মিত বসবাস করতে শুরু করে। শনিবার সকালে সেখানে গিয়ে কথা হয় মুন্সিগঞ্জের বেদে নিজাম উদ্দিন, আনোয়ারা বেগম, মাছুমা বেগম ও বন্যার সাথে। তারা জানান, পদ্মা তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। তাই আজ তারা যাযাবর। আগের মতো তাদের আর দিন ভাল যাচ্ছে না। হাড় কাঁপানো শীতের কারণে গ্রামে যাওয়া যায় না। তা ছাড়া এখন আর মানুষ আগের মতো সিংগা নেয় না। তাই তাদের জীবন কাটছে বেশ কষ্টে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ আগের চেয়ে সচেতন হওয়া এবং চিকিত্সা বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে তাদের এ করুণ দশা। জীবনের তাগিদে আজ তারা বিভিন্ন উপজেলায় বসবাস করছে।বোরহানউদ্দিন হেলিপ্যাডে বর্তমানে প্রায় ৪০টি বেদে বহর আস্তানা গেড়েছে। ঝুপড়িগুলোতে বসবাস করছে শতাধিক লোক। এদের পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস করার কারণে পরিবারের শিশুরা ভুগছে চর্ম ও ঠাণ্ডাজনিত রোগে। হেলিপ্যাড পার্শ্ববর্তী ফকির বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মোঃ মহিবুল্লাহ ও এলাকাবাসী নবীন তালুকদার, আলআমিন জানান, নামাজের অযু করার পাশাপাশি নানা কাজে সেখানকার জলাশয়ের পানি ব্যবহার করতে হয়। দিন দিন এখানে যেভাবে বেদে বহরের সংখ্যা বাড়ছে এতে করে এই জলাশয়ের পানি ব্যবহার তো দূরের কথা এখানে বসবাস করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এ ব্যাপারে ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মমিন টুলু জানান, বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের সহায়তায় এদেরকে সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।