সীমান্ত দিয়ে মোটর সাইকেলে আসছে ইয়াবা
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৯
ভারত থেকে চোরাপথে আসা ইয়াবা পাচারে টানা মোটর সাইকেল নিরাপদ যানবাহন হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় এক হাজার অত্যাধুনিক রেজিস্ট্রেশনবিহীন অবৈধ মোটর সাইকেল কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক ও মেরিন ড্রাইভ ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার চলছে। মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে আসা কোটি কোটি টাকার ইয়াবা এসব মোটর সাইকেল আরোহী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পাচার করে যাচ্ছে। থাইল্যান্ড থেকে মিয়ানমার, মিয়ানমার থেকে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের অন্তত ৩৫টি পয়েন্ট দিয়ে কক্সবাজার হয়ে ভয়াবহ এ মরণ নেশাটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৬৯ জন ইয়াবা পাচারকারীকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে উখিয়া-টেকনাফ থানা পুলিশের নিকট তালিকা পৌঁছালেও ইয়াবা পাচারকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। টেকনাফ থানা পুলিশ জানিয়েছেন, আমরা ইয়াবা পাচারকারীর একটি নতুন তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। এসব ইয়াবা ও মাদক পাচার কাজে এদেশীয় সিন্ডিকেট ছাড়াও উগ্রপন্থী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ কুতুপালং ও নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক মজুদ করে বিক্রয় করছে। এছাড়াও উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পভিত্তিক শতাধিক বোরকা পরিহিতা রোহিঙ্গা মহিলা ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করেছেন, সীমান্তের চেকপোস্টগুলোতে মহিলা পুলিশ না থাকায় পাচারকারী মহিলাদের সনাক্তকরা সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি এসব পাচারকারী রোহিঙ্গা মহিলাকে ধরতে মরিচ্যা চেকপোস্টে মহিলা বিজিবির সদস্যদের তত্পর রাখা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের অধিকাংশের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, কালার পাড়া, নয়াপাড়া, সাবরাং, জালিয়া পাড়া, নাইটং পাড়া, জাদিমুরা, হ্নীলা, মৌলভী বাজার, উনচিপ্রাঙ্ক, হোয়াইক্যং, উলুবনিয়া, তুলাতলী, উখিয়ার আঞ্জুমান পাড়া, পালংখালী, রহমতের বিল, ধামনখালী, বালুখালী, কাট পাহাড়সহ ৩৫টি পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাজারজাত হয়ে আসছে। শুধু বাংলাদেশের মাদকের বাজারকে লক্ষ্য করে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে ৭টি কারখানায় কোটি কোটি পিস ইয়াবা উত্পাদন হয়ে থাকে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। দেশের বাজারে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত। সাংকেতিক নামের কারণে এসব চালান ধরাও কঠিন। এখানে কমলা, লাল ও লেবু কালারের ইয়াবার প্রচলন রয়েছে।
উখিয়া-টেকনাফ পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকলেও তা রয়েছে সীমিত আকারে। বিজিবি, র্যাব, পুলিশ কোটি কোটি টাকার ইয়াবা আটক করলেও মূল পাচারকারীরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বানের পানির মতো মাদক পাচার বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন পুরো জেলায় মাদকাসক্ত, পাচারকারী ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজারে উন্নীত হয়েছে বলে কক্সবাজার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। এই অধিদপ্তরের একটি প্রতিবেদনে প্রায় তিনশত মাদক ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে। টেকনাফ থানার ওসি মো. ফরহাদ বলেন, ইতিমধ্যে ৭০ জনের একটি নতুন ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকা প্রণয়ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। উখিয়া থানার ওসি অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের ব্যাপারে সঠিক তথ্য না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।