রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ : এমসিসিআই

দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। আগামী সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ও বিরোধীদল যে অবস্থানে রয়েছে তার সমাধান হওয়া জরুরি বলেও তারা মনে করেন। একইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে উল্লেখ করে তারা বলেন, রাজনৈতিক কর্মকান্ডের নামে চাঁদাবাজি, অবৈধ চাঁদা আদায়সহ অন্যান্য অপকর্মের ব্যাপারে সরকারকে কঠোর হতে হবে। কারণ এসব অপকর্ম ব্যবসায়িক খরচ বাড়িয়ে তোলে। যা বহুগুণে উত্পাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে পিছে ঠেলে দিচ্ছে। রবিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (এমসিসিআই) নেতৃবৃন্দ বৈঠক করেন। তারা অর্থমন্ত্রীর কাছে বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন এবং কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। এমসিসিআই সভাপতি রোকেয়া এ রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে চেম্বার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এমসিসিআই নেতৃবৃন্দ সরকারের কিছু পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধি, রাজস্ব আয় বাড়ানো, বিদ্যুত্ খাতের উন্নয়ন (যদিও বেশি মূল্যে) বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য দিক। রফতানি প্রবৃদ্ধির ধারাও ইতিবাচক রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির হার হ্রাসের প্রশংসা করে তারা বলেন, এরপরও অর্থনীতিতে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। যার অনেকগুলো খুবই গুরত্বপূর্ণ। তারা ব্যাংক সুদের হার হ্রাস করার সুপারিশ করে বলেন, হলমার্ক কেলেংকারির পর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে গেছে। যার ফলে শিল্পখাতের কাঁচামাল আমদানি কমে গেছে এবং শিল্পখাতে নতুন করে উত্পাদন সক্ষমতা বাড়ছে না। এমনকি বিদ্যমান উত্পাদন ক্ষমতারও সঠিক ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যে কারণেই হয়তো বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬ দশমিক ২ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে। কিন্তুু এর ফলে প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগ হচ্ছে না। কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ বিষয়গুলোকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার সুপারিশ করেন তারা। অর্থমন্ত্রী তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নজর দেয়ার আশ্বাস দেন।