বিমান শ্রমিক-কর্মচারিরা ধর্মঘটে যাচ্ছে আজ ভোর ৬টা থেকে

আবার অশান্ত হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সাত দফা দাবিতে বিমান শ্রমিক লীগ (সিবিএ) আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সোমবার বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর সন্ধ্যায় বিমান শ্রমিক লীগের সভাপতি এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এদিকে শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকায় কাজকর্মে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বলাকার সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেয়ায় বিমানের কর্মকর্তারা গত দুই দিন অফিসে ঢুকতে পারেননি। রবিবার সংস্থার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক আহমেদকে শ্রমিক কর্মচারীরা প্রায় ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় তাকে ‘বলাকা’ থেকে বাসায় ফিরতে হয়। প্রসঙ্গত, শতভাগ মেডিক্যাল ভাতা, শ্রমিক কর্মচারীদের ইউনিফর্মের টাকা সংস্থা থেকে প্রদান, খাবার ভাতা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকায় উন্নীত, পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে কর্মরত অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণসহ সাত দফা দাবিতে গতবছর মার্চ মাস থেকে বিমান বাঁচাও ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনে শামিল হয় বিমানের শ্রমিক কর্মচারী ছাড়াও কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু এক পর্যায়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খানের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। পরে বিমান কর্তৃপক্ষ বিমান শ্রমিক লীগ নেতা মশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারসহ সাত দফা দাবি নিয়ে রবিবার দুপুরে কিছু শ্রমিক কর্মচারী সংস্থার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে যান। এ সময় শ্রমিক কর্মচারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। কিন্তু তাদের দাবি মেনে নিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক অপারগতা প্রকাশ করেন। মোসাদ্দেক আহমেদ গতকাল ইত্তেফাককে জানান, শ্রমিক কর্মচারীদের উত্থাপিত দাবি মেনে নেয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। দাবি নিয়ে তাদের সঙ্গে রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত তার কোন আলোচনা হয়নি। হয়েছে শুধু বাকবিতণ্ডা। অপরদিকে গতকাল দুপুর ১টায় বিমানের প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে সকল পরিচালক, ইউনিয়ন ও এসোসিয়েশনের প্রতিনিধির সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মূলত সিবিএ কর্তৃক আহূত বর্তমান আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সকল ইউনিয়ন ও এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি সিবিএ কর্তৃক আহূত আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘটের সাথে কোন রকম একাত্মতা নেই বলে জানান এবং তারা কেউই এ ধরনের নিয়ম বহির্ভূত আন্দোলনকে সমর্থন করেন না। উল্লেখ্য, কোনরূপ পূর্ব ঘোষণা ও আলোচনা ছাড়াই সিবিএ এ আন্দোলনের ডাক দেয়। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও বিমানের বর্তমান পরিস্থিতিতে সিবিএ প্রদত্ত ৭ দফা দাবি মেনে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি এ ধরনের কর্মসূচিকে রাষ্ট্রীয় ইস্যুতে পরিণত না করার আহবান জানান এবং এ ধর্মঘটে বিমানের সমূহ ক্ষতিসাধনের বিষয়টি সিবিএসহ সকল ইউনিয়ন ও এসোসিয়েশনকে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন। সভায় বলা হয়, এ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল দাবি-দাওয়া আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সম্ভব। তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে শ্রম আইন অনুযায়ী এ ধরনের ধর্মঘট আহবান অপ্রত্যাশিত। সভায় সকল ইউনিয়ন ও এসোসিয়েশন-এর পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মসূচির ক্ষেত্রে বিমান প্রশাসনকে শ্রম আইন মেনে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে মত দেন। বোয়া (বিমান অফিসার্স এসোসিয়েশন), সায়েব (এয়ারক্রাফ্ট ইঞ্জিনিয়ারস), বিমান এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন-১৩০৮, ১৯১৭ এবং কেবিন ক্রু এসোসিয়েশন বর্তমানে বিমানে সৃষ্ট অস্থিরতা নিরসনে বিমান প্রশাসনের যে কোন ধরনের সিদ্ধান্তে একাত্মতা ও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিমানের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সঠিক নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য আহবান জানান।