মৌসুমের শুরুতেই জানিয়ে দেয়া হবে ধান সংগ্রহ মূল্য

এখন থেকে মৌসুমের শুরুতেই কৃষককে জানিয়ে দেয়া হবে ধান সংগ্রহের সরকার নির্ধারিত মূল্য। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে কী পরিমাণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হবে, তাও ঘোষণা করবে সরকার। পরপর গত দুই মৌসুমে (আমন ও বোরো মৌসুম) দেশে ধানের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু ফসল বেচে লাভ তো দূরের কথা, উত্পাদন খরচই উঠছে না কৃষকের। চলতি আমন মৌসুমেও প্রতি মণ ধানে ১০০ থেকে দেড়’শ টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে কৃষককে। তাই কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য দিতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র। সূত্র জানিয়েছে, মৌসুমের শুরুতেই সংগ্রহ মূল্য ঘোষণার পাশাপাশি মজুদের পরিমাণ আরো বাড়ানো, চাল রফতানি, ওএমএস ও ফেয়ার প্রাইস কার্ডের মাধ্যমে বিতরণ করা চালের দাম কমানোসহ কয়েকটি প্রস্তাবের একটি সার-সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগির এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রসঙ্গত বিগত সময়ে ফসল কাটার পর ধান, চালের সংগ্রহ মূল্য ও পরিমাণ ঘোষণা করা হতো। এতে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্নভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেত। মৌসুমের শুরুতে ফসলের সংগ্রহ মূল্য জানানো হলে উত্পাদনে আগ্রহ বাড়বে কৃষকের। সূত্র বলেছে, এতে শুরুতেই লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে পারবে তারা। তবে এমন সংগ্রহ মূল্য ঘোষণা করা হবে যাতে উত্পাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রয়োজনে ফসল কাটা শুরু হলে বাজারের সাথে সমন্বয় করে দাম বাড়ানো হবে। সূত্র আরো জানিয়েছে, খাদ্যশস্য সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানোর ব্যাপারেও উদ্যোগ নেয়া হবে। বর্তমানে সারাদেশে নতুন গুদাম নির্মাণের পর সবমিলিয়ে ১৭ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ করা যাবে। কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টন খাদ্যশস্য মুজদ রাখা উচিত। প্রতিবেশী দেশ ভারতের হিসাব তুলে ধরে সূত্র জানায়, সেখানে ১২০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫ থেকে ৬ কোটি টন খাদ্যশস্য মজুদ রাখা হয়। সেই তুলনায় আমাদের মজুদের পরিমাণ অনেক কম। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাবের সার-সংক্ষেপে ফেয়ার প্রাইস কার্ড ও ওএমএসের মাধ্যমে বিতরণ করা চালের দাম কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ওএমএসের চাল বিক্রি করা হয় ২৪ টাকায়। অথচ এই মানের চাল বাজারে ২৪-২৫ টাকায় পাওয়া যায়। যে কারণে ওএমএস-এর চাল কিনতে আগ্রহ নেই ক্রেতাদের। তাই ওএমএস-এর চাল ২২ টাকা ও ফেয়ার প্রাইস কার্ডের মাধ্যমে বিতরণ করা চালের দাম ২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আগামী বোরো মৌসুমের আগে গুদাম থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল বের হয়ে যাবে। বোরো মৌসুমে আভ্যন্তরীণ বাজার থেকে বেশি পরিমাণে চাল সংগ্রহ করা যাবে।