গল্প নয় সত্যি

অপরাধী বিড়াল!

‘অপরাধী যেই হোক না কেন শাস্তি তাকে পেতেই হবে’-এই বাক্যটি হয়তো বহুবারই বহু জায়গায় শুনেছি আমরা। কিন্তু অপরাধী যদি মানুষ না হয়ে অন্য কোনো প্রাণী হয় তাহলে তার জন্য শাস্তির বিধান কী? কিংবা প্রাণীটির অপরাধের নেপথ্যে থাকা মনুষ্য অপরাধীদের খুঁজে বের করার উপায়ই বা কী? সচরাচর এ ধরনের প্রশ্ন নিয়ে আমাদের খুব একটা ভাবতে না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সত্যিকার অর্থেই এ ধরনের একটি ভাবনার মুখে পড়তে হয়েছে ব্রাজিলের এলাগোস প্রদেশের আরাপিরাক শহরের কারা কর্তৃপক্ষকে। আর তাদের এই দূর্ভাবনায় ফেলে দিয়েছে প্রশিক্ষিত এক বিড়াল। জেলের কয়েদিদের জন্য জেল থেকে পালানোর মতো প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে কারা অভ্যন্তরেই ধরা পড়ে সাদা রঙের এই বিড়ালটি। এ সময় বিড়ালটির সাথে যেসব উপকরণ পাওয়া যায় তার মধ্যে ছিল দেয়াল ছিদ্র করার জন্য ব্যবহূত ড্রিল বিট, গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফাইল, গান বা কথা শোনার জন্য ব্যবহূত ইয়ারফোন, মোবাইল ফোন এবং ফোনের চার্জারসহ বেশ কিছু সামগ্রী। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উপকরণগুলো বিড়ালটির শরীরে টেপ দিয়ে পেচিয়ে তাকে কারা অভ্যন্তরের কোনো কয়েদীর কাছে পাঠানো হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কারাগার থেকে পালানো কিংবা কারাগারে বসে বাইরের অন্য অপরাধীদের সাথে যোগাযোগের জন্যই হয়তো এই উপকরণগুলো পাঠানো হয়েছিল। নানা সময়ে কারাবিদ্রোহ ও কয়েদীদের পলায়নের ঘটনায় ঝামেলা পোহাতে হওয়া ব্রাজিলের বিভিন্ন কারাগারের জন্য এটি নতুন এবং বড় একটি সমস্য বলেই মনে করছেন আরাপিরাক শহরের কারা কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, এভাবে কারা অভ্যন্তরে প্রাণী ব্যবহার করে কোনো সামগ্রী পাঠানো রোধ করা একদিকে যেমন কষ্টসাধ্য অন্যদিকে ধরা পড়ার পর প্রাণীদের কাছ থেকে তথ্য উদ্ধারও সম্ভব নয়। ফলে যেকোনো সময়েই আবারও একই পন্থায় কারাগারের অভ্যন্তরে বিপজ্জনক কিছু এনে বিদ্রোহ বা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে কুখ্যাত অপরাধীরা।