কার্টুনের দেশে মনিকা
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৪
মনিকাদের ক্লাসে নতুন একটা মেয়ে ভর্তি হয়েছে। ক্লাসের প্রথম দিন থেকেই মনিকা খেয়াল করছে মেয়েটির আচরণ স্বাভাবিক নয়। কারণ মেয়েটি শুধু হাসে আর হাসে। কারো সাথেই মেয়েটি কথা বলে না। একদিন টিফিনের সময় মনিকা অনেক আগ্রহ নিয়ে মেয়েটির কাছে গিয়ে বসল আর জিজ্ঞেস করল কি নাম তোমার? অদ্ভুত আচরণের মেয়েটি উত্তর দিল, আমি- আমি তায়ারা। আর তুমি? মনিকা। তায়ারা মনিকার নামটা শুনেই হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ল। মনিকা বলল, কি ব্যাপার বলতো, তুমি হাসছো কেন? মনিকা, মনিকা তুমি না মনির মত চকচকে সুন্দর। তাই বলে কি হাসতে হবে? মনিকা জবাব দিল। তায়ারা বলল, ব্যাপারটা আসলে সে রকম নয়, কাউকে যদি আমার খুব পছন্দ হয় তাহলে আমি তাকে দেখলেই হাসি। মনিকা বলল, তাই বুঝি? তায়ারা বলল- হুম, হুম। আমার হাসতে অনেক বেশি ভাল লাগে। মনিকা একটু চুপ হয়ে গেল আর ভাবতে লাগল তায়ারা মেয়েটি কথা বলার সময় প্রথম কথাটি দু’বার উচ্চারণ করে, আর তার হাসি কিছুটা কার্টুনের হাসির মতো।
সেদিন মনিকা যখন টেলিভিশনে কার্টুন ছবি দেখছিল হঠাত্ সে খেয়াল করল তায়ারার মত একটি মেয়ে কার্টুন হাসছে। মনিকা চোখে চশমা পরে আরো মনোযোগী হয়ে কার্টুন ছবিটি দেখতে লাগল। কিছুক্ষণ পর মনিকা উচ্চৈস্বরে বলল, আরে এটা তো সেই তায়ারা, আমার ক্লাসের নতুন বন্ধু। মনিকার তায়ারার প্রতি কৌতূহল আরো বেড়ে গেল। পরদিন ক্লাসে মনিকা তায়ারার পাশে বসল, আর তাকে ফিসফিস করে বলল, তায়ারা, এই তায়ারা, তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ? তায়ারা বলল, হ্যাঁ, হ্যাঁ, শুনতে পাচ্ছি। আচ্ছা তুমি কথা বলার সময় প্রথম শব্দটি দু’বার কেন উচ্চারণ করো বলো তো? আরে আরে আমাদের দেশে কথা বলার এটাই নিয়ম— প্রথম প্রথম শব্দটি দু’বার আমরা বলি। মনিকা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, তোমাদের দেশ মানে? তায়ারা একটু থতমত খেয়ে বলল, এই, এই যাঃ আমিতো তোমাকে বলেই দিলাম। মনিকা বলল, তাহলে তোমার দেশ কোথায়? তায়ারা বলল, সব সব বলছি, কিন্তু কাউকে বলো না প্লিজ। ঠিক আছে কাউকে বলবো না, এবার ঘটনাটা বলো। তায়ারা বলল, আমি আমি আসলে মানুষ না, একটা কার্টুন। মনিকা উচ্ছ্বাসের সাথে বলল, আরে আমি তোমার মত একটা মেয়েকে কার্টুন ছবিতে দেখেছি। তুমি কি সেই? হ্যাঁ হ্যাঁ তুমি আমাকেই দেখেছ। আমি কার্টুনের দেশ থেকে তোমাদের বাংলাদেশে এসেছি। কিন্তু কেন? কারণ কারণ আমার বাবা-মা আমাকে বের করে দিয়েছে কার্টুনের দেশ থেকে। মনিকা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, কেন বলো তো? আমি, আমি অনেক পচা কার্টুন। জানো, একদিন আমি আমার বন্ধুদের সাথে পরীর দেশে ঘুরতে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমি আমার বাবা-মাকে সেটা জানাইনি। কারণ আমাদের পরীর দেশে যাওয়া নিষেধ ছিল। পরীর দেশ থেকে ঘুরে আসার পর বাবা-মাকে মিথ্যা কথা বলেছিলাম যে, আমি পরীর দেশে যাইনি, কিন্তু তারা বুঝতে পেরেছিল। মিথ্যা বলার অপরাধে আমাকে কার্টুনের দেশ থেকে বের করে দিয়েছিলো তার পরদিনই। তখন আমি আর আমার বন্ধুরা সবাই কার্টুনের দেশ থেকে বের হয়ে আলাদা আলাদা দেশে গিয়ে আশ্রয় খুঁজে নিলাম। আর আমি বাংলাদেশ পছন্দ করলাম। তাই খুব ভালো কাজ করেছো, তা না হলে তোমার সাথে আমার পরিচয় হতো না? কিন্তু কেন এই দেশে আসলে তুমি? কারণ কারণ বাংলাদেশে তোমার মত মেয়েরা কার্টুন অনেক বেশি পছন্দ করে, তাই চলে এলাম, আর তোমার স্কুলে ভর্তি হলাম, কারণ তুমি নিজে অনেক কার্টুন পছন্দ করো এটা আমি জানি। মনিকা বলল, কিন্তু এখন তোমাকে আর ভালো লাগছে না, কারণ—তুমি বাবা-মা’র কথা শোনো না, আর মিথ্যা কথা বলো। আমি কোন মিথ্যাবাদীর সাথে বন্ধুত্ব রাখব না। তায়ারা উত্তর দিল, মনিকা মনিকা আমি মিথ্যা কথা বলা ছেড়ে দিয়েছি। আর বাবা-মাকেও অনেক বেশি মিস করি।
মনিকা বলল, তাহলে তুমি প্রমিজ করো তোমার দেশে ফিরে গিয়ে তোমার বাবা-মা’র কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবে। কি যাবে? তায়ারা বলল, খুব খুব যাবো কিন্তু তুমি কি আমার সাথে যাবে কার্টুনের দেশে— ঘুরতে? মনিকা বলল, অবশ্যই যাবো তায়ারা, আমার তো তোমাদের খুবই পছন্দ, কারণ তোমাদের দেশে সুন্দর একটা আইন আছে যেখানে সত্যের পক্ষে সবসময় ন্যায়বিচার হয়। তোমরা আপনজনদেরও অপরাধের জন্য শাস্তি দাও, এটা আমার খুবই ভালো লাগে। তায়ারা বলল, মনিকা মনিকা বন্ধু তুমি অনেক অনেক ভালো, অনেক সত্যবাদী একটা মেয়ে। চলো আমরা দু’জন ভালো বন্ধু হয়ে যাই। তারপর একদিন মনিকা তার কার্টুন বন্ধু তায়ারার সাথে ঘুরে আসল তাদের সুন্দর কার্টুনের দেশ থেকে। ঘুরে এসেই ক্লাসের বন্ধুদের এবং বাসায় সবাইকে ঘটনাটি খুলে বলল। সবাই অনেক খুশি হল এবং মনিকার কথা শুনে সবাই ইচ্ছা পোষণ করল ইস! মনিকা, আমরাও যদি কার্টুনের দেশে যেতে পারতাম!