জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শেষ দিনে আড্ডা আর গল্প

বিগত সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করার জন্যই দিনটি একটু ব্যতিক্রমধর্মী করে নিত্যনতুন সাজে। নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই ক্লাসে উপস্থিত সবাই। সবাই প্রাণোচ্ছল। নেই কোন অভিমান। সবাই গল্প আর আড্ডায় ব্যস্ত। বলছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের স্নাতক শ্রেণির ক্লাস পার্টির কথা। অন্য আর কটা দিনের চেয়ে ভিন্ন এ দিনটি। চারদিকে হৈ-হুল্লোড় আর চেঁচামেচি। রঙ-বেরঙের ফেস্টুন আর পোস্টার দিয়ে সাজানো পুরো ক্যাম্পাস। উত্সবমুখর পরিবেশ। গান, গল্প, আড্ডায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। তাদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। শেষবারের মতো বন্ধুদের সঙ্গে সমবেত আড্ডা। শিক্ষাজীবনের সমাপনী ক্লাস পার্টি। বহু প্রতীক্ষার পর পাওয়া এ দিনটি তারা স্মরণীয় করে রাখছিলো ক্যামেরার ফ্রেমে। বিভাগীয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম মজুমদার ও হালিমা হকের উপস্থিতিতে কাটা হয় কেক। চার বছরের সম্পর্কের বন্ধুরা একে অপরের মুখে তুলে দেয় কেক। কেউ বা আয়েশ করে গালে মাখে। কেকে কেকে মেখে যায় সবার মুখ, চোখ, পোশাক, নাক, কান, হাত। এক মজার দৃশ্য! এরপর অনুষ্ঠিত হয় ‘বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’। শিবলি নোমানের রাগ সঙ্গীতে মুগ্ধ হয় সবাই। তবে মুগ্ধতা কাটতেও সময় লাগে না বেশিক্ষণ। বিরক্তি এসে ভর করে সবার ওপর। তবুও নোমান গাইবেই। একে একে ঘণ্টাখানেক চলে তার ‘রাগ’ অনুশীলন। বন্ধুদের সঙ্গে শেষবারের মতো ক্লাসে গলা মেলায় অন্যরাও। নিপা, শিমুল ও মল্লিকার গানও শ্রুতিমধুর হয়ে ওঠে দর্শকদের কাছে। জিন্নাহ’র গ্যাঙনাম নাচের কথা বেশ কয়েকদিন মনে থাকবে সবার। রাজিবের কবিতা ও টিপুর সঙ্গীতে নতুন মাধুর্যতা পায় অনুষ্ঠানটি। এছাড়া শিথির নেতৃত্বে তমা ও জিন্নাহর ফেবিকলটি নাচটিও ছিল আকর্ষণীয়। শরীফের রম্য কবিতার মধ্য দিয়ে উঠে আসে ক্লাসের সবার চরিত্র। তবে উষা, সালমা, সোনিয়াদের কষ্ট ছিল অন্যখানে, যদি প্রিয়জনরাও আজকের পার্টিতে থাকতে পারতো! সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর বিভাগের ছাদ, বারান্দা, ক্লাসরুম সব জায়গায় চলে ছবি ওঠানো। প্রিয় শিক্ষকদের সান্নিধ্যও গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয় ছবিটার। সংগ্রহে রাখার মতো। আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলো। গাইলো উচ্ছ্বাসের গান। নিয়মের বাইরে নিজেদের মতো করেই উদযাপিত হলো দিনটি। দুপুরে মজা করে ক্যাম্পাসের বটতলায় চলে ভুরিভোজ। এরপর সবাই মেতে ওঠে অনভ্যস্ত কর্মে। শখ করে কেউবা জানায় প্রিয় বান্ধবীকে পছন্দ ও ভালোলাগার কথাটি। সবাই একসঙ্গে হেঁটে বেড়ায় পুরো ক্যাম্পাস।