দিনটি ছিল উত্সবের

দিনটি ছিল আনন্দের, উত্সবের। কেউ স্বপরিবারে, কেউবা কাউকে সঙ্গে না নিয়েই, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে চড়ে, কেউ অন্য উপায়ে যাচ্ছিল। উদ্দেশ্য আনন্দ উত্সবে যোগদান। উত্সবটি ছিল রাজধানীর অতীশ দিপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল উত্সবের আমেজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কর্তা ভিসি অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন শিকদারের দিক নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় আনন্দ উত্সবটি পরিণত হয়েছিল মিলনমেলায়। তিন হাজারের বেশি শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তার উপস্থিতি আনন্দ উত্সবটি মিলনমেলায় পরিণত করেছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে নেচে-গেয়ে। উত্তরার ১৫নং সেক্টরের বাইলজুড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে এ উত্সবের আয়োজনে ছিল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। ছিল না কোন ঘাটতি। গানের শিক্ষক না হলেও ড. আব্দুর রহমান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সাজিয়েছিলেন সব বিনোদন দিয়েই। ড. আতিকুল্লাহ, কাজী মাসুদুজ্জামান কাজের ভীড়ে হারিয়ে গিয়েছিল। উত্সবের আনন্দ উপভোগ করেছেন কাজের মধ্য দিয়ে। কোথাও যেন কোন অব্যবস্থাপনা না হয় তার দায়িত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যক্ষ (অব.) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ট্রোজারার ড. রফিক উদ্দীন আহমেদ, প্রধান হিসাব কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বিশ্বাস, লাইব্রেরিয়ান আশ্রাফ উদ্দিনের ছিল সরব উপস্থিতি। আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত উত্সব আয়োজনের কাজ করেও পরদিন ভোরে স্বপরিবারে উত্সবে যোগ দিতে ভুল করেনি শেখ জুবায়ের। নেয়ামুল, রেইনী, খোকনও ছিল অনেকটা উচ্ছ্বসিত। আর মিডিয়া সেলের গোলাম সারোয়ারকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি অনেকটাই ব্যস্ত। কাকডাকা ভোরে অনেকেই হাজির হয়েছিল উত্তরায়। আশপাশের লোক বুঝে উঠার আগেই গানের সুরে বেঝে উঠে। ধীরে ধীরে নীরব এলাকা পরিণত হয় সবর এলাকায়। এ আনন্দ উত্সবে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইশরাফিল আলম- এমপি, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য তাহেরুল ইসলাম পাটোয়ারী, ফিরোজ মাহমুদ হোসেন, সৈয়দ হেমায়েত হোসেন, গোলাম সারোয়ার কবির, ইকবাল হোসেন অপু, শাহীন খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা অনেকটাই ছিল উচ্ছ্বসিত। নানা রঙের বর্নের শাড়ি পরে সেজে-গুজে উপস্থিত ছিল সবাই। রবিন নাম পরিচয়ে এক শিক্ষার্থী জানায়, আমরা অভিভূত। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আনন্দ উত্সবে যোগ দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। রিয়া নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মত হলো, আমার জীবনের স্মরণীয় উত্সব এটি। উত্তরার বাইলাজুড়ি এলাকার এ উত্সব ছড়িয়ে পড়ে পুরো উত্তরায়। আর অনেক দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন বোর্ড। এ কারণে জায়গাটি খুজে পেতে কারো কঠিন হয়নি। রফিক নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবারের আয়োজন ছিল অসাধারণ। আর বিনোদনতো ছিলই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আবুল হোসেন সিকদার বলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু পরিবেশ দিতে। শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় এনে উত্তরার এই স্থানটিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছি। অচিরেই এখানে ক্লাস শুরু করা যাবে বলে তিনি জানান।