অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটিতে প্রায়ই ঘটা এ প্রাকৃতিক দুর্যোগটি এবার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে বলে জনগণকে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। মঙ্গলবার রাজধানী ক্যানবেরার আশেপাশে বিভিন্ন পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে, নিউ সাউথ ওয়েলস ও তাসমানিয়া রাজ্যে নতুন করে দাবানল শুরু হয়। সকালে দেশটির সবচেয়ে জনবহুল দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল এলাকায় তাপমাত্রা বেড়ে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়ায়। সবচেয়ে বড় শহর সিডনিতে তাপমাত্রা ছিলো ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অস্ট্রেলিয়া জুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড গরমের পরে ইতিমধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ক্যানবেরায় শতাধিক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ২০টি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। দাবানল ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের নিজেদের নিরাপদ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ’ শব্দটি খুব সঙ্গত কারণেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাই সবারই নিজেকে নিরাপদে রাখাটা জরুরি। নিউ সাউথ ওয়েলসের অন্তত পাঁচটি এলাকাতে দাবানল শুরু হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার থেকে দ্বীপরাজ্য তাসমানিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দাবানলের আগুনে অন্তত ১০০টি বাড়ি পুড়ে যায়। তবে দাবানলে কারো নিহত হওয়ার খবর এখনো পাওয়া যায়নি, যদিও এসব এলাকায় অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে ২০০৯ সালে ভিক্টোরিয়া রাজ্যে দাবানলে ১৭৩জন নিহত হয়। ‘ব্ল্যাক স্যাটারডে’ নামে পরিচিত ওই দাবানলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ছিলো ৪৪০ কোটি মার্কিন ডলার। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গত ২৭ ডিসেম্বর পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে অন্তত আটদিন স্থায়ী হয়। গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ছিলো এটি। এরপরে পুরো দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ শুরু হয়।