টিকেট মিলবে ১৩ জানুয়ারি থেকে বিপিএলে এবারো টিকেটের চড়া মূল্য
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২০
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এবারো টিকিটের উচ্চমূল্য ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ গ্যালারির জন্য টিকেটের দাম রাখা হয়েছে ৩৫০ টাকা। অপরদিকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা দাম ধরা হয়েছে বিসিবি কর্পোরেট বক্সের জন্য। বিপিএলের টিকিট স্বত্ব পাওয়া অ্যাকটিভ সার্ভিসেস এই দাম নির্ধারণ করেছে।
মূলত বিপিএল গভর্নিং কমিটি ও ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান গেম অন স্পোর্টসের সাথে আলোচনা করেই প্রতিষ্ঠানটি এই মূল্য ঠিক করে। তবে ছাত্র ও এয়ারটেল গ্রাহকদের মূল্য ছাড় দেয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টিকেট সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে টিকেট বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুর রহমান রানা এসব তথ্য জানান।
বিপিএলের প্রথম আসরেও টিকেটের দাম বাড়ানোর ফলে মাঠে দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়েছিল বিপিএল কমিটি। পরে টিকেটের দাম কমিয়ে আনা হয়েছিল তারা। এবারো টিকেটের উচ্চমূল্য ধরা হয়েছে। তবে এর পেছনে গেম অন স্পোর্টসের পরিচালক অঞ্জন গাঙ্গুলী যুক্তি দিলেন, ‘দেখুন টিকেটের এই দাম নির্ধারণ করার আগে আমরা আইপিএলের টিকেটের দাম দেখেছি। শ্রীলংকার এসএলপিএলও দেখেছি। অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশও লক্ষ্য করেছি। সবকিছু মিলে আমরা আয়ত্তের মধ্যে টিকেটের দাম রাখার চেষ্টা করেছি’।
অ্যাকটিভ সার্ভিসেসের কর্মকর্তার যুক্তি, ‘টিকেটের সর্বনিম্ন দাম ধরা হয়েছে ২৪৫ টাকা। সেটি একদিনে দুই ম্যাচের জন্য। ভ্যাট বাদ দিলে টিকেটের মূল্য দাঁড়ায় ২০৮ টাকা। আর ম্যাচ হিসাব করলে প্রতিটি ম্যাচে টিকেট মূল্য হয় ১০৪ টাকা। সাথে ভ্যাট তো আছেই। এটা টিকেটের দামের ভিতরেই রাখা হয়েছে’।
বিপিএল গভর্নিং কমিটির সদস্য সচিব ডা: আই এইচ মল্লিক এ প্রসংগে বলেন, ‘প্রথমে টিকেটের দাম আরো বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছিল। আমরা পূর্বের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ৪০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছি’।
আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে এক যোগে বিপিএলের টিকেট পাওয়া যাবে। তবে কোন ব্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া যাবে তা কালও জানাতে পারেনি টিকেটের স্বত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি। প্রাইম ব্যাংক বিপিএলের টাইটেল স্পন্সর। তাদের সাথে আলোচনা চলছে বলে জানান টিকিটের স্বত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা।
ছাত্র ও এয়ারটেল গ্রাহকদের জন্য বিপিএলের টিকেট ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে অ্যাকটিভ সার্ভিসেস। পরিচয়পত্র দেখালে বিপিএলের টিকেটের শতকরা ৩০ শতাংশ ছাড় পাবেন ছাত্ররা। এয়ারটেল গ্রাহকরাও পাবেন একই সুবিধা। এছাড়া যারা অনলাইন ও মাঠে উপস্থিত থেকে যারা টিকেট কিনবেন তারাও মূল্য থেকে ১০ শতাংশ কম পাবেন। একজন দর্শক দুটি ম্যাচের টিকেট কিনতে পারবে। পাঁচ বছরের উপরের বাচ্চাদেরও টিকেট লাগবে।
মাঠে উপস্থিত দর্শকদের জন্যও পুরস্কারের ব্যবস্থা রেখেছে অ্যাকটিভ সার্ভিসেস। গ্রুপ পর্বে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী দর্শকদের জন্য প্রতিদিন পুরস্কার হিসেবে টেলিভিশন দেয়া হবে। আর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে বিজয়ী দর্শককে দেয়া হবে মোটরবাইক। এছাড়া সেরা ফ্যান ও সেরা ফ্যাসের পুরস্কারও দিবে তারা। আর এসব পুরস্কারের স্পন্সর করবে ওয়ালটন।
বিপিএলের প্রথম আসরে শিহাব ট্রেডিংয়ের কাছে গেম অন স্পোর্টস ৪৫ কোটি টাকার বিনিময়ে টিকেটের স্বত্ব বিক্রি করেছিল। এবার অ্যাকটিভ সার্ভিসেসের কাছে তারা ২০ কোটি টাকার বিনিময় টিকেটের স্বত্ব বিক্রি করেছে। গেম অন স্পোর্টস আশা করছে, গতবারের তুলনায় এবার তারা টিকেট থেকে ভালো একটা মুনাফা পাবে।
বিপিএলের টিকেট মূল্য:
ক্যাটাগরি মূল্য ছাত্র ও এয়ারটেল গ্রাহকদের জন্য
সাধারণ গ্যালারি ৩৫০ ২৪৫
সাউদার্ন স্ট্যান্ড ৫০০ ৩৫০
নর্দান স্ট্যান্ড ৫০০ ৩৫০
শহীদ মুস্তাক স্ট্যান্ড ২০০০ ১৪০০
শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ড ২০০০ ১৪০০
ইন্টারন্যাশনাল সাউথ স্ট্যান্ড ৩০০০ ২১০০
ইন্টারন্যাশনাল নর্থ স্ট্যান্ড ৩০০০ ২১০০
ভিআইপি ও ডিরেক্টর এনক্লোজার ৫০০০
ও বিসিবি ডিগনেটারিস
বিসিবি কর্পোরেট লাউঞ্জ ৮০০০
বিসিবি কর্পোরেট বক্স (দক্ষিণ ও উত্তর) ১৫০০০