খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করে শিক্ষার্থীরা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে পদ্মা-মেঘনা নদী বেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলে ১৯৯৮ সালে চরকাশিম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে যা উচ্চ বিদ্যালয় হিসাবে অনুমোদন পেয়েছে। ৪০ হাজার জনবসতির বিশাল এই চরাঞ্চলের শিক্ষার আলো জ্বালানোর জন্য এটিই একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে শ্রেণী কক্ষসহ যথেষ্ট পরিমাণ শিক্ষার উপকরণ স্বল্পতা এবং শিক্ষক সংকটের মধ্যেও সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলছে ভর্তির অনুমোদন পাওয়া এই বিদ্যালয়টি। কোন প্রকার সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা ব্যতীত দুর্গম চরাঞ্চলসমূহের মধ্যে এই একটি মাত্র উচ্চ বিদ্যালয় যেখানে রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক ছাত্রছাত্রীর জন্য একটি মাত্র টয়লেট, নেই কোন আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল, নেই ছাত্রীদের কমনরুম , নেই কোন প্রকার খেলার সামগ্রী। আর শ্রেণী কক্ষ সংকটের কারণে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় পাঠদান ব্যাহত হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে স্কুলের ১১ জন শিক্ষক কেবলমাত্র ছাত্রছাত্রীদের বেতন-ফিসের উপর নির্ভরশীল। ফলে বিদ্যালয়ের সামান্য বেতনে শিক্ষকবৃন্দ ১৫ বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিদ্যালয়টি ৩টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ১২টি গ্রাম ঘিরে, ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ৪০ হাজারেরও বেশি জনসংখ্যার মাত্র এই ১টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সম্প্রতি এটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। এর আগে বিগত জেএসসি পরীক্ষায় মেঘনা নদী পার হয়ে দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে ৯৮ ভাগ পাসের হার নিয়ে বিদ্যালয়টি সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলছে। এখানকার জনসংখ্যার অধিকাংশই নিম্ন আয় ও দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। কৃষি ও মত্স্য তাদের প্রধান পেশা । বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল জানান, কোন ধরনের সরকারি সহযোগিতা না পাবার কারণে শিক্ষকরা খুবই কষ্টে জীবন যাপন করেন। স্থানীয় অভিভাবকের অধিকাংশেরই শিক্ষা সচেতনতার অভাব। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং স্থানীয় এখলাছপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী মোসাদ্দেক হোসেন মুরাদ বলেন, নিম্ন আয়ের চরাঞ্চলবাসী কুসংস্কারে আচ্ছন্ন বিধায় বাল্যবিবাহ রোধকল্পে ১৯৯৮ সালে চরকাশিম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করি। কোন প্রকার সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা ব্যতীত বিদ্যালয়টি ফলাফলের দিক থেকে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলছে। শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের কর্মচারীবৃন্দ সামান্য বেতন ভাতায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন-নিবেদন করেছি, এখনো করছি। বাল্যবিবাহ ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করতে এই চরাঞ্চলে শিক্ষার প্রসারের বিকল্প নেই।