শিক্ষকদের মিছিলে তরল গ্যাস, অসুস্থ ৩০

এমপিওভুক্তির (বেতন-ভাতা বাবদ সরকার প্রদেয় অংশ) দাবিতে আন্দোলনরত নন এমপিও শিক্ষকদের পূর্বঘোষিত শিক্ষাভবন ঘেরাও কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। পুলিশ মিছিলে তরল গ্যাস নিক্ষেপ করে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন কমপক্ষে ৩০ জন শিক্ষক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে শিক্ষক সমাবেশে একই দাবিতে আজ শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে বলে ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতারা। একই সঙ্গে জাতীয় প্রেক্লাবের সামনে চলমান লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে শিক্ষা ভবন ঘেরাও করার উদ্দেশ্যে শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মিছিল নিয়ে রওয়ানা হলে কদম ফোয়ারার কাছে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। শিক্ষকরা বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগোতে চাইলে এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের উপর এক ধরনের তরল গ্যাস ছোড়ে। এ সময় গ্যাসের ঝাঁঝ সইতে না পারে অনেকের চোখ থেকে পানি ঝরতে থাকে। গ্যাসের কারণে ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সেখানে এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষক-কর্মচারীরা পল্টন মোড়ে গিয়ে সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন। সমাবেশে ননএমপিও শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি এশারত আলী বলেন, এমপিওভুক্ত হওয়ার যোগ্য প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন করবেন এবং আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এদিকে অসুস্থ শিক্ষকরা সুস্থ হয়ে বিকালে সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশে নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় বলা হয়, বুধবার সকালে তারা তৃতীয় দিনের মতো জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হয়ে ১০টায় অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করবেন। বেলা ১১টায় মিছিল সহকারে গিয়ে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবেন। এছাড়া বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এসময় তাদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, সরকার টাকা লুটপাট করছে। অথচ শিক্ষকদের দাবি পূরণ করছে না। আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা। গত অক্টোবর মাসে একই দাবিতে কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, দু-এক দিনের মধ্যেই দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কিন্তু এখনো সেই বৈঠক হয়নি। এ জন্য তারা বাধ্য হয়ে আবার কর্মসূচি পালন করছেন। ঐক্যজোট গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে ৫ জানুয়ারির মধ্যে দাবি পূরণের সময় বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে দাবি পূরণ না হওয়ায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গত সোমবার তারা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। শিক্ষকদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, আমরা শিক্ষকদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে আমরা কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। সিদ্ধান্ত দিবেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা। যানজটে দুর্ভোগ এদিকে শিক্ষকদের কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ প্রেসক্লাবের পশ্চিম দিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ফলে যানজটে চরম দুর্ভোগ পোহান বাসযাত্রীরা।