প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা আজ

দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের চূড়ান্ত ঘোষণা আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের মহাসমাবেশ থেকে আজ বুধবার এই ঘোষণা দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মধ্য দিয়ে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক লাখ তিন হাজার ১৯২ জন শিক্ষককের চাকরি জাতীয়করণ হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফছারুল আমীন। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হবে। আফছারুল আমীন জানান, এমপিওভুক্ত রেজিস্টার্ড ২২ হাজার ৯৮১টি, স্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত ৩৮৮টি, অস্থায়ী নিবন্ধন প্রাপ্ত ৩৬১টি, পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্ত ৭২০টি, এমপিওবহির্ভূত কমিউনিটি ৬৫৩টি, এমপিও বহির্ভূত এনজিও বিদ্যালয় ১৩০টি, পাঠদানের অনুমতির সুপারিশপ্রাপ্ত ১৫১টি এবং পাঠদানের অনুমতির অপেক্ষায় থাকা ৮০৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হচ্ছে। এসব বিদ্যালয়ে এক লাখ তিন হাজার ১৯২ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তিনধাপে শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করা হবে। এমপিওভুক্ত ২২ হাজার ৯৮১টি বিদ্যালয়ের ৯১ হাজার ২৪ জন শিক্ষক চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারের আওতায় আসবেন। এজন্য ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাড়তি খরচ হবে একশ কোটি টাকা। দ্বিতীয় ধাপে স্থায়ী/অস্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত, কমিউনিটি এবং সরকারি অর্থায়নে এনজিও পরিচালিত দুই হাজার ২৫২টি বিদ্যালয়ের নয় হাজার ২৫ জন শিক্ষককে আগামী ১ জুলাই থেকে জাতীয়করণের আওতায় আসবেন। এজন্য ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে বাড়তি ৩৭১ কোটি টাকা খরচ হবে। তৃতীয়ধাপে পাঠদানের অনুমতির সুপারিশপ্রাপ্ত এবং পাঠদানের অনুমতির অপেক্ষায় থাকা ৯৬০টি বিদ্যালয়ের তিন হাজার ৭৯৬ জন শিক্ষককে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে। এই ধাপ বাস্তবায়নে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অতিরিক্ত খচর হবে ৬৫১ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে ৩৬ হাজার ১৬৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে ১৯৯১ সাল থেকে আন্দোলন শুরু করেন।